
১৩ বছর আগে গুম হওয়ার পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গুম ও হত্যার অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর এ তথ্য জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে ইলিয়াস আলীকে গুমের পর হত্যা করা হয়। একই মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একশ’র বেশি মানুষকে গুম ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় সংগঠিত অপরাধের একাধিক সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে।
এম ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে নিজ বাসার কাছ থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে গুম ও শতাধিক হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনীত মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গাজীপুরে তিনজনকে হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটার চর-দুয়ানিতে পঞ্চাশ জনকে হত্যা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল হক সুমন, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ তিন শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরা হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























