ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র দুই গ্রাম, আহত ২২ জন Logo মাধবপুরে ট্রাক্টরের চাপায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo রেমা-কালেঙ্গা বনে ট্রাক্টরসহ গাছ আটক, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা নিয়ে সভা Logo বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ Logo ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর Logo ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুত দেশে আনা হবে: আইজিপি Logo মাধবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদিতে আবাসিক ভবনে মিসাইলের আঘাত, বাংলাদেশিসহ নিহত ২ Logo লাখাইয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

লাখাইয়ের হাওর-বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি, আইনের তোয়াক্কা নেই

পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র দুই গ্রাম, আহত ২২ জন

error:

লাখাইয়ের হাওর-বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি, আইনের তোয়াক্কা নেই

আপডেট সময় ০৯:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।