ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

মাধবপুরে আদালতের নির্দেশে শিশু উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ–জনতা সংঘর্ষ: আহত ৬

**মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:**

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আদালতের নির্দেশে শিশু উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে এ সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন আহত হন।

আহতরা হলেন— গাজীপুর গ্রামের আবু কালামের মেয়ে সোনিয়া (৩০) ও সাবিনা (৩৬), কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান, কনস্টেবল শরীফ আহমেদ, শাহেদ আহমেদ ও সুজন কান্তি। আহতদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনিকা পাল জানান, আহতদের মাথা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর গ্রামের আকিল মিয়া ও তার সাবেক স্ত্রী নাজমা আক্তার দিপ্তীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সন্তানের হেফাজত পেতে নাজমা আক্তার আদালতে মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে বুধবার দুপুরে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান শিশুটিকে উদ্ধারে গেলে আকিল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা হয়, এতে এসআই মিজানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

খবর পেয়ে কাশিমনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তুফা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

এসআই মিজানুর রহমান বলেন, “আদালতের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আমাদের ওপর বেআইনিভাবে হামলা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে আকিল মিয়া অভিযোগ করেন, “আমি সন্তানের হেফাজত দিতে রাজি ছিলাম, কিন্তু পুলিশ বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার বোন ও বোনজামাইকে মারধর করেছে, সিসিটিভি ভেঙেছে এবং তাদের আটক করেছে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ জানান, “এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

মাধবপুরে আদালতের নির্দেশে শিশু উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ–জনতা সংঘর্ষ: আহত ৬

আপডেট সময় ০৭:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

**মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:**

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আদালতের নির্দেশে শিশু উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে এ সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন আহত হন।

আহতরা হলেন— গাজীপুর গ্রামের আবু কালামের মেয়ে সোনিয়া (৩০) ও সাবিনা (৩৬), কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান, কনস্টেবল শরীফ আহমেদ, শাহেদ আহমেদ ও সুজন কান্তি। আহতদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনিকা পাল জানান, আহতদের মাথা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর গ্রামের আকিল মিয়া ও তার সাবেক স্ত্রী নাজমা আক্তার দিপ্তীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সন্তানের হেফাজত পেতে নাজমা আক্তার আদালতে মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে বুধবার দুপুরে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান শিশুটিকে উদ্ধারে গেলে আকিল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা হয়, এতে এসআই মিজানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

খবর পেয়ে কাশিমনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তুফা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

এসআই মিজানুর রহমান বলেন, “আদালতের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আমাদের ওপর বেআইনিভাবে হামলা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে আকিল মিয়া অভিযোগ করেন, “আমি সন্তানের হেফাজত দিতে রাজি ছিলাম, কিন্তু পুলিশ বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার বোন ও বোনজামাইকে মারধর করেছে, সিসিটিভি ভেঙেছে এবং তাদের আটক করেছে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ জানান, “এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”