ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনী: হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ

বাংলার খবর ডেস্ক:
১৯৭১ সালের এই দিনে (২৪ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী একটি সফল অ্যামবুশ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিত সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘এস ফোর্স’ কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযানটি মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বীরত্ব ও কৌশলগত সক্ষমতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

‘এস ফোর্স’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ মহকুমা এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হবিগঞ্জের ‘কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ’।

সিলেট অভিমুখে যাতায়াতের জন্য মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা জঙ্গল ব্যবহার করত। পাকিস্তান সেনারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সেখানে তৎপরতা বাড়ায়। মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। ২০/২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল জঙ্গলে প্রবেশ করলে মুক্তিবাহিনীর পুঁতে রাখা অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং কয়েকজন হতাহত হয়। এরপর সেনারা সিন্দুরখানের দিকে সরে যায়। পরদিন আরও বড় বাহিনী এসে মাইন অপসারণ করে ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। মুক্তিবাহিনী তখন সরাসরি আক্রমণ না করে বড় আঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা-সিন্দুরখান সড়কের পাশে পাহাড়ের ঢালে অবস্থান নিয়ে শত্রুর অপেক্ষায় থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল ২০-২৫ জন রাজাকারসহ অগ্রসর হলে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের ছেড়ে দেয়। তবে মূল বাহিনী ফাঁদে প্রবেশ করলে চারদিক থেকে গুলি চালানো হয়। এতে শত্রুর সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়। পেছনের সেনারা উদ্ধারে চেষ্টা করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সুপরিকল্পিত পরিখা প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।

এই যুদ্ধে নায়েক আবদুল মান্নান অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে মেশিনগানের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ মুক্তিযোদ্ধাদের আরও প্রেরণা যোগায়।

অভিযানে পাক বাহিনীর একজন অফিসারসহ প্রায় ৬১ জন সেনা নিহত হয় এবং অনেকে আহত হয়। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী সামান্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই বড় বিজয় অর্জন করে।

কালেঙ্গা জঙ্গলের অ্যামবুশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। সুপরিকল্পিত কৌশল, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে— আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনী: হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ

আপডেট সময় ০৯:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:
১৯৭১ সালের এই দিনে (২৪ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী একটি সফল অ্যামবুশ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিত সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘এস ফোর্স’ কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযানটি মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বীরত্ব ও কৌশলগত সক্ষমতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

‘এস ফোর্স’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ মহকুমা এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হবিগঞ্জের ‘কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ’।

সিলেট অভিমুখে যাতায়াতের জন্য মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা জঙ্গল ব্যবহার করত। পাকিস্তান সেনারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সেখানে তৎপরতা বাড়ায়। মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। ২০/২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল জঙ্গলে প্রবেশ করলে মুক্তিবাহিনীর পুঁতে রাখা অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং কয়েকজন হতাহত হয়। এরপর সেনারা সিন্দুরখানের দিকে সরে যায়। পরদিন আরও বড় বাহিনী এসে মাইন অপসারণ করে ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। মুক্তিবাহিনী তখন সরাসরি আক্রমণ না করে বড় আঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা-সিন্দুরখান সড়কের পাশে পাহাড়ের ঢালে অবস্থান নিয়ে শত্রুর অপেক্ষায় থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল ২০-২৫ জন রাজাকারসহ অগ্রসর হলে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের ছেড়ে দেয়। তবে মূল বাহিনী ফাঁদে প্রবেশ করলে চারদিক থেকে গুলি চালানো হয়। এতে শত্রুর সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়। পেছনের সেনারা উদ্ধারে চেষ্টা করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সুপরিকল্পিত পরিখা প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।

এই যুদ্ধে নায়েক আবদুল মান্নান অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে মেশিনগানের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ মুক্তিযোদ্ধাদের আরও প্রেরণা যোগায়।

অভিযানে পাক বাহিনীর একজন অফিসারসহ প্রায় ৬১ জন সেনা নিহত হয় এবং অনেকে আহত হয়। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী সামান্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই বড় বিজয় অর্জন করে।

কালেঙ্গা জঙ্গলের অ্যামবুশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। সুপরিকল্পিত কৌশল, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে— আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারেনি।