ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে Logo মাধবপুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ধীরেন্দ্র পাল, সেক্রেটারি তপন দেবনাথ Logo মাধবপুরে ট্রাকভর্তি বালুর নিচে মিলল ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা: বিজিবির অভিযান Logo কুবির অর্থনীতি ক্লাবের নেতৃত্বে আসাদ-মাহফুজুল, নতুন কমিটি ঘোষণা Logo বাহুবলে ক্লিন ইমেজের প্রশাসক চান এলাকাবাসী: আলোচনায় আলমগীর খাঁন রানা Logo হত্যাসহ ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী Logo অন্যায়কারী আমাদের সহানুভূতি পাবে না: মাধবপুরে এমপি সৈয়দ ফয়সল Logo মাধবপুরে টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ Logo লাখাইয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ডাক দিলেন সংসদ সদস্য জি কে গউছ Logo বাহুবলে আধুনিক উপজেলা গড়ার প্রতিশ্রুতি: ডক্টর রেজা কিবরিয়া

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনী: হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ

বাংলার খবর ডেস্ক:
১৯৭১ সালের এই দিনে (২৪ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী একটি সফল অ্যামবুশ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিত সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘এস ফোর্স’ কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযানটি মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বীরত্ব ও কৌশলগত সক্ষমতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

‘এস ফোর্স’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ মহকুমা এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হবিগঞ্জের ‘কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ’।

সিলেট অভিমুখে যাতায়াতের জন্য মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা জঙ্গল ব্যবহার করত। পাকিস্তান সেনারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সেখানে তৎপরতা বাড়ায়। মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। ২০/২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল জঙ্গলে প্রবেশ করলে মুক্তিবাহিনীর পুঁতে রাখা অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং কয়েকজন হতাহত হয়। এরপর সেনারা সিন্দুরখানের দিকে সরে যায়। পরদিন আরও বড় বাহিনী এসে মাইন অপসারণ করে ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। মুক্তিবাহিনী তখন সরাসরি আক্রমণ না করে বড় আঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা-সিন্দুরখান সড়কের পাশে পাহাড়ের ঢালে অবস্থান নিয়ে শত্রুর অপেক্ষায় থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল ২০-২৫ জন রাজাকারসহ অগ্রসর হলে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের ছেড়ে দেয়। তবে মূল বাহিনী ফাঁদে প্রবেশ করলে চারদিক থেকে গুলি চালানো হয়। এতে শত্রুর সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়। পেছনের সেনারা উদ্ধারে চেষ্টা করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সুপরিকল্পিত পরিখা প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।

এই যুদ্ধে নায়েক আবদুল মান্নান অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে মেশিনগানের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ মুক্তিযোদ্ধাদের আরও প্রেরণা যোগায়।

অভিযানে পাক বাহিনীর একজন অফিসারসহ প্রায় ৬১ জন সেনা নিহত হয় এবং অনেকে আহত হয়। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী সামান্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই বড় বিজয় অর্জন করে।

কালেঙ্গা জঙ্গলের অ্যামবুশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। সুপরিকল্পিত কৌশল, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে— আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারেনি।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে

error:

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনী: হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ

আপডেট সময় ০৯:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:
১৯৭১ সালের এই দিনে (২৪ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের কালেঙ্গা জঙ্গলে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী একটি সফল অ্যামবুশ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিত সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘এস ফোর্স’ কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযানটি মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বীরত্ব ও কৌশলগত সক্ষমতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

‘এস ফোর্স’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ মহকুমা এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হবিগঞ্জের ‘কালেঙ্গা জঙ্গলে অ্যামবুশ’।

সিলেট অভিমুখে যাতায়াতের জন্য মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা জঙ্গল ব্যবহার করত। পাকিস্তান সেনারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সেখানে তৎপরতা বাড়ায়। মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। ২০/২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল জঙ্গলে প্রবেশ করলে মুক্তিবাহিনীর পুঁতে রাখা অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং কয়েকজন হতাহত হয়। এরপর সেনারা সিন্দুরখানের দিকে সরে যায়। পরদিন আরও বড় বাহিনী এসে মাইন অপসারণ করে ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। মুক্তিবাহিনী তখন সরাসরি আক্রমণ না করে বড় আঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনী কালেঙ্গা-সিন্দুরখান সড়কের পাশে পাহাড়ের ঢালে অবস্থান নিয়ে শত্রুর অপেক্ষায় থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল ২০-২৫ জন রাজাকারসহ অগ্রসর হলে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের ছেড়ে দেয়। তবে মূল বাহিনী ফাঁদে প্রবেশ করলে চারদিক থেকে গুলি চালানো হয়। এতে শত্রুর সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়। পেছনের সেনারা উদ্ধারে চেষ্টা করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সুপরিকল্পিত পরিখা প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।

এই যুদ্ধে নায়েক আবদুল মান্নান অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে মেশিনগানের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ মুক্তিযোদ্ধাদের আরও প্রেরণা যোগায়।

অভিযানে পাক বাহিনীর একজন অফিসারসহ প্রায় ৬১ জন সেনা নিহত হয় এবং অনেকে আহত হয়। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী সামান্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই বড় বিজয় অর্জন করে।

কালেঙ্গা জঙ্গলের অ্যামবুশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। সুপরিকল্পিত কৌশল, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে— আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারেনি।