ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

ঘ্রাণে মাতাল জনপদ: হবিগঞ্জের পাহাড়ি কাঁঠালের জয়যাত্রা

প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত জনজীবনে এক টুকরো স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছে কাঁঠালের মৌসুম। পাহাড়ি কাঁঠালের সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের জনপদ। জেলার নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ি বাগানগুলো থেকে প্রতিদিন শত শত কাঁঠাল আসছে স্থানীয় হাটে-বাজারে। ফলের রাজা কাঁঠাল যেন এ মৌসুমে রাজসিকভাবেই দখল করে নিয়েছে বাজার আর মানুষের মন।

হবিগঞ্জের পাহাড়ি টিলা ও সমতল এলাকায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের মুখে হাসি, কারণ ফলনের পাশাপাশি বাজারদরও বেশ সন্তোষজনক। জেলার বড় বড় পাইকারি বাজার—মুছাই ও চন্ডিছড়া থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

মুছাই বাজারের এক আড়তদার জানালেন, বর্তমানে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। ছোট আকারের কাঁঠাল প্রতি শত ৭ থেকে সাড়ে ৯ হাজার এবং বড় আকারের কাঁঠাল প্রতি শত ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর হবিগঞ্জে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে এবং প্রতি একরে গড়ে উৎপাদন হয়েছে ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন।

রশিদপুরের চাষি তোরাব আলী মোল্লা বলেন, “সহযোগী ফসল হিসেবে কাঁঠাল চাষ করি। এতে যত্ন কম লাগে, লাভ হয় বেশি। এ বছর ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারদরও হাতের নাগালে।”

প্রাকৃতিক সুগন্ধ আর মিষ্টি স্বাদের এই পাহাড়ি কাঁঠাল শুধু হবিগঞ্জের অর্থনীতিই সমৃদ্ধ করছে না, একে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রাণবন্ত মৌসুমি উৎসবের আবহ। গ্রীষ্মের খরতাপেও তাই কাঁঠালের সুবাস যেন এনে দিচ্ছে গ্রামবাংলার প্রাণে এক আনন্দময় পরশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

ঘ্রাণে মাতাল জনপদ: হবিগঞ্জের পাহাড়ি কাঁঠালের জয়যাত্রা

আপডেট সময় ০৪:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত জনজীবনে এক টুকরো স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছে কাঁঠালের মৌসুম। পাহাড়ি কাঁঠালের সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের জনপদ। জেলার নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ি বাগানগুলো থেকে প্রতিদিন শত শত কাঁঠাল আসছে স্থানীয় হাটে-বাজারে। ফলের রাজা কাঁঠাল যেন এ মৌসুমে রাজসিকভাবেই দখল করে নিয়েছে বাজার আর মানুষের মন।

হবিগঞ্জের পাহাড়ি টিলা ও সমতল এলাকায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের মুখে হাসি, কারণ ফলনের পাশাপাশি বাজারদরও বেশ সন্তোষজনক। জেলার বড় বড় পাইকারি বাজার—মুছাই ও চন্ডিছড়া থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

মুছাই বাজারের এক আড়তদার জানালেন, বর্তমানে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। ছোট আকারের কাঁঠাল প্রতি শত ৭ থেকে সাড়ে ৯ হাজার এবং বড় আকারের কাঁঠাল প্রতি শত ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর হবিগঞ্জে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে এবং প্রতি একরে গড়ে উৎপাদন হয়েছে ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন।

রশিদপুরের চাষি তোরাব আলী মোল্লা বলেন, “সহযোগী ফসল হিসেবে কাঁঠাল চাষ করি। এতে যত্ন কম লাগে, লাভ হয় বেশি। এ বছর ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারদরও হাতের নাগালে।”

প্রাকৃতিক সুগন্ধ আর মিষ্টি স্বাদের এই পাহাড়ি কাঁঠাল শুধু হবিগঞ্জের অর্থনীতিই সমৃদ্ধ করছে না, একে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রাণবন্ত মৌসুমি উৎসবের আবহ। গ্রীষ্মের খরতাপেও তাই কাঁঠালের সুবাস যেন এনে দিচ্ছে গ্রামবাংলার প্রাণে এক আনন্দময় পরশ।