ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নাসিরনগর গোকর্ণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোধন Logo লাখাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যু এসএসসি পরীক্ষার্থীর, আশঙ্কাজনক বন্ধু: Logo নাসিরনগরে দিনে কুকুর, রাতে শিয়ালের উপদ্রব; অতিষ্ঠ জনজীবন Logo লাখাইয়ে সড়কে হারভেস্টার রেখে প্রতিবন্ধকতা, ওসির ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস Logo জামালপুরে ৫০০ টাকার বাজিতে জীবন্ত শালিক খাওয়ার অভিযোগ, অটোচালক আটক Logo নাসিরনগরে সেচ প্রকল্পের দুই ট্রান্সফরমার চুরি, বিপাকে কৃষকরা Logo ক্যানসারসহ ৭ রোগে আর্থিক সহায়তা পেতে নতুন করে আবেদন করতে হবে Logo ঐতিহ্য ধরে রেখে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সৈয়দ সঈদ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ: সভাপতি শাফকাত আহমেদ Logo সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo বিজয়নগর সীমান্তে ১২ কোটি টাকার ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ

নাসিরনগরে দিনে কুকুর, রাতে শিয়ালের উপদ্রব; অতিষ্ঠ জনজীবন

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ ও রাতে শিয়ালের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনের বেলায় সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় দলবদ্ধ কুকুরের ঘোরাফেরা এবং সন্ধ্যার পর লোকালয়ে শিয়ালের আনাগোনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও প্রবীণদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও মোড়ে দলবদ্ধ বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ বেড়েছে। অনেক সময় পথচারীদের দেখলে কুকুর তেড়ে আসে বা ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে শিশুদের একা বাইরে যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিনের এই ভোগান্তির পাশাপাশি সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা বাড়ে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। দলবদ্ধ শিয়াল বাড়িঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা করায় হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। শিয়ালের ভয়ে সন্ধ্যার আগেই শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে ঘরে ফিরে আসতে হয় অনেককে।

উপজেলার এক বাসিন্দা অমৃত মন্ডল বলেন, “দিনের বেলা কুকুর আর রাতের বেলা শিয়ালের উপদ্রবে আমরা বড়ই যন্ত্রণায় আছি। এসবের কারণে গবাদিপশু-পাখি ও শিশুদের নিয়ে সারা দিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”

উপজেলার কলেজপাড়ার গৃহবধূ জাহানারা বেগমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিয়াল দিনের বেলাতেও বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করে। কখন কামড় দেয়, তা নিয়ে ভয় থাকে। রাত হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবের কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। তাই কুকুর বা অন্য কোনো সন্দেহভাজন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এ অবস্থায় নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও প্রবীণদের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ চান তাঁরা।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসিরনগর গোকর্ণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোধন

error:

নাসিরনগরে দিনে কুকুর, রাতে শিয়ালের উপদ্রব; অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ ও রাতে শিয়ালের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনের বেলায় সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় দলবদ্ধ কুকুরের ঘোরাফেরা এবং সন্ধ্যার পর লোকালয়ে শিয়ালের আনাগোনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও প্রবীণদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও মোড়ে দলবদ্ধ বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ বেড়েছে। অনেক সময় পথচারীদের দেখলে কুকুর তেড়ে আসে বা ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে শিশুদের একা বাইরে যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিনের এই ভোগান্তির পাশাপাশি সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা বাড়ে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। দলবদ্ধ শিয়াল বাড়িঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা করায় হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। শিয়ালের ভয়ে সন্ধ্যার আগেই শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে ঘরে ফিরে আসতে হয় অনেককে।

উপজেলার এক বাসিন্দা অমৃত মন্ডল বলেন, “দিনের বেলা কুকুর আর রাতের বেলা শিয়ালের উপদ্রবে আমরা বড়ই যন্ত্রণায় আছি। এসবের কারণে গবাদিপশু-পাখি ও শিশুদের নিয়ে সারা দিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”

উপজেলার কলেজপাড়ার গৃহবধূ জাহানারা বেগমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিয়াল দিনের বেলাতেও বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করে। কখন কামড় দেয়, তা নিয়ে ভয় থাকে। রাত হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবের কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। তাই কুকুর বা অন্য কোনো সন্দেহভাজন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এ অবস্থায় নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও প্রবীণদের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ চান তাঁরা।