ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ডিএনসিসি বনানী সুপার মার্কেট নির্বাচন: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন লাখাইয়ের মহসিন আলম Logo গুরুতর অসুস্থ মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল ইসলাম কামাল, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন Logo টিকটকে পরিচয়, নতুন জীবনের আশায় ঘরছাড়া কুমিল্লার চার ছাত্রী Logo লাখাইয়ে ঔষধ প্রশাসনের অভিযান, অধিকাংশ ফার্মেসি বন্ধ Logo নাসিরনগর গোকর্ণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোধন Logo লাখাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যু এসএসসি পরীক্ষার্থীর, আশঙ্কাজনক বন্ধু: Logo নাসিরনগরে দিনে কুকুর, রাতে শিয়ালের উপদ্রব; অতিষ্ঠ জনজীবন Logo লাখাইয়ে সড়কে হারভেস্টার রেখে প্রতিবন্ধকতা, ওসির ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস Logo জামালপুরে ৫০০ টাকার বাজিতে জীবন্ত শালিক খাওয়ার অভিযোগ, অটোচালক আটক Logo নাসিরনগরে সেচ প্রকল্পের দুই ট্রান্সফরমার চুরি, বিপাকে কৃষকরা

২২৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র ২, মাধবপুরে ব্যাহত পাঠদান

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন শিক্ষক। তাদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং অন্যজন সহকারী শিক্ষক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশুশ্রেণিতে ৪৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৩৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৩১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২৯ জন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকিরুল হাসান। পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও পাঠদান কার্যক্রমের চিত্র দেখে তিনি ডেপুটেশনের মাধ্যমে দুইজন শিক্ষক দেওয়ার কথা জানান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ চন্দ্র সূত্রধর জানান, ছাতিয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন এবং পয়লাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আরও একজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওই দুই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।

তিনি বলেন, “ডেপুটেশনে দেওয়া শিক্ষকেরা কবে যোগদান করবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। দুইজন শিক্ষক দিয়ে ২২৯ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

বিদ্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবির হোসেন বলেন, “ডেপুটেশনে দেওয়া দুই শিক্ষক শিগগিরই বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। তারা যোগদান করলে আর শিক্ষক সংকট থাকবে না।”

স্থানীয়রা বলছেন, ২২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডেপুটেশনে দেওয়া শিক্ষকদের দ্রুত যোগদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএনসিসি বনানী সুপার মার্কেট নির্বাচন: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন লাখাইয়ের মহসিন আলম

error:

২২৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র ২, মাধবপুরে ব্যাহত পাঠদান

আপডেট সময় ১১:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন শিক্ষক। তাদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং অন্যজন সহকারী শিক্ষক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশুশ্রেণিতে ৪৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৩৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৩১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২৯ জন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকিরুল হাসান। পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও পাঠদান কার্যক্রমের চিত্র দেখে তিনি ডেপুটেশনের মাধ্যমে দুইজন শিক্ষক দেওয়ার কথা জানান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ চন্দ্র সূত্রধর জানান, ছাতিয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন এবং পয়লাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আরও একজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওই দুই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।

তিনি বলেন, “ডেপুটেশনে দেওয়া শিক্ষকেরা কবে যোগদান করবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। দুইজন শিক্ষক দিয়ে ২২৯ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

বিদ্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবির হোসেন বলেন, “ডেপুটেশনে দেওয়া দুই শিক্ষক শিগগিরই বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। তারা যোগদান করলে আর শিক্ষক সংকট থাকবে না।”

স্থানীয়রা বলছেন, ২২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডেপুটেশনে দেওয়া শিক্ষকদের দ্রুত যোগদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।