ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে কন্যাশিশু দিবস পালিত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও র‍্যালি Logo লাখাইয়ে এক ঘণ্টায় শেয়ালের কামড়ে আহত ৩২, হাসপাতালে রোগীর ভিড় Logo লাখাইয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম Logo লাখাইয়ে বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে ১৩টি পদ্মগোখরোর বাচ্চা উদ্ধার Logo লাখাইয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, বাম্পার ফলনের আশা Logo লাখাইয়ে নাজমুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ‘লাদেন’ গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে পুকুরে মুরগির খামারের বর্জ্য ভাসার অভিযোগ, পানিদূষণ নিয়ে উদ্বেগ Logo মাধবপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ, জরিমানা ২ হাজার টাকা Logo মাধবপুরে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত, বাল্যবিবাহ বন্ধের আহ্বান Logo ধর্মীয় উৎসবে সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে: এমপি ফয়সল

সাপের কামড়ে প্রাণহানি বাড়ছে লাখাইয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম রাখার জোর দাবি

লাখাই প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সাপের কামড়ে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক ‘অ্যান্টিভেনম’ না থাকায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এ পরিস্থিতিতে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামে সাপের কামড়ে রেজিয়া বেগম নামে ছয় সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তার এক নিকট আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না জেনেই রোগীকে সরাসরি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাতায়াত ও সময় নষ্ট হওয়ার কারণে চিকিৎসায় বিলম্ব হয়। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকলে হয়তো রেজিয়া বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

এর আগে গত ৩০ মে লাখাই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ২২ বছর বয়সী যুবক রাব্বিও সাপের কামড়ে মারা যান। তার এক আত্মীয় জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম না থাকায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেক সময় নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) কাজী সামছুল আরেফিন বলেন, গত বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুত ছিল। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে এবং জুন মাসের পর নতুন করে অ্যান্টিভেনম পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বর্ষা মৌসুমে হাওরবেষ্টিত লাখাই এলাকায় সাপের উপদ্রব অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অ্যান্টিভেনম না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের জটিলতা বা বিলম্বের কারণে যেন আর কোনো মানুষকে প্রাণ দিতে না হয়, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে কন্যাশিশু দিবস পালিত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও র‍্যালি

error:

সাপের কামড়ে প্রাণহানি বাড়ছে লাখাইয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম রাখার জোর দাবি

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

লাখাই প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সাপের কামড়ে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক ‘অ্যান্টিভেনম’ না থাকায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এ পরিস্থিতিতে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামে সাপের কামড়ে রেজিয়া বেগম নামে ছয় সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তার এক নিকট আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না জেনেই রোগীকে সরাসরি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাতায়াত ও সময় নষ্ট হওয়ার কারণে চিকিৎসায় বিলম্ব হয়। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকলে হয়তো রেজিয়া বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

এর আগে গত ৩০ মে লাখাই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ২২ বছর বয়সী যুবক রাব্বিও সাপের কামড়ে মারা যান। তার এক আত্মীয় জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম না থাকায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেক সময় নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) কাজী সামছুল আরেফিন বলেন, গত বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুত ছিল। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে এবং জুন মাসের পর নতুন করে অ্যান্টিভেনম পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বর্ষা মৌসুমে হাওরবেষ্টিত লাখাই এলাকায় সাপের উপদ্রব অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অ্যান্টিভেনম না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের জটিলতা বা বিলম্বের কারণে যেন আর কোনো মানুষকে প্রাণ দিতে না হয়, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।