
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটে দুটি সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র কার্যত মিডওয়াইফের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাধিকা পাল (৭০) ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তিনি জগদীশপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হন। তার মতো প্রতিদিনই অসংখ্য নারী-পুরুষ এই কেন্দ্রে ভিড় করলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে তারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগদীশপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ শিখা রানি দাশ রোগীদের প্রাথমিকভাবে দেখছেন এবং সীমিত পরিসরে কিছু ওষুধ দিচ্ছেন। তবে জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই সেবা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ রোগীদের।
জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, এই কেন্দ্রটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। চিকিৎসক না থাকায় নারী, শিশু ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। চিকিৎসক নিয়োগের দাবিতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একই চিত্র নোয়াপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও। এখানেও কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। আশপাশের তিনটি চা বাগানসহ হাজার হাজার মানুষ এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।
নোয়াপাড়া কেন্দ্রের মিডওয়াইফ আয়েশা বেগম বলেন, তার মূল দায়িত্ব স্বাভাবিক প্রসব সেবা দেওয়া হলেও চিকিৎসক না থাকায় তাকে সাধারণ রোগীদেরও সামলাতে হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর জানান, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























