ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী Logo হবিগঞ্জে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে জয়-পরাজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে উন্নয়নের আহ্বান মির্জা ফয়সল আমিনের Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট

মাধবপুরে চিকিৎসক সংকটে দুই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মিডওয়াইফ দিয়ে চলছে সেবা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটে দুটি সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র কার্যত মিডওয়াইফের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাধিকা পাল (৭০) ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তিনি জগদীশপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হন। তার মতো প্রতিদিনই অসংখ্য নারী-পুরুষ এই কেন্দ্রে ভিড় করলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে তারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগদীশপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ শিখা রানি দাশ রোগীদের প্রাথমিকভাবে দেখছেন এবং সীমিত পরিসরে কিছু ওষুধ দিচ্ছেন। তবে জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই সেবা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ রোগীদের।

জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, এই কেন্দ্রটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। চিকিৎসক না থাকায় নারী, শিশু ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। চিকিৎসক নিয়োগের দাবিতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই চিত্র নোয়াপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও। এখানেও কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। আশপাশের তিনটি চা বাগানসহ হাজার হাজার মানুষ এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।

নোয়াপাড়া কেন্দ্রের মিডওয়াইফ আয়েশা বেগম বলেন, তার মূল দায়িত্ব স্বাভাবিক প্রসব সেবা দেওয়া হলেও চিকিৎসক না থাকায় তাকে সাধারণ রোগীদেরও সামলাতে হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর জানান, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী

error:

মাধবপুরে চিকিৎসক সংকটে দুই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মিডওয়াইফ দিয়ে চলছে সেবা

আপডেট সময় ০৮:০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটে দুটি সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র কার্যত মিডওয়াইফের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাধিকা পাল (৭০) ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তিনি জগদীশপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হন। তার মতো প্রতিদিনই অসংখ্য নারী-পুরুষ এই কেন্দ্রে ভিড় করলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে তারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগদীশপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ শিখা রানি দাশ রোগীদের প্রাথমিকভাবে দেখছেন এবং সীমিত পরিসরে কিছু ওষুধ দিচ্ছেন। তবে জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই সেবা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ রোগীদের।

জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, এই কেন্দ্রটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। চিকিৎসক না থাকায় নারী, শিশু ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। চিকিৎসক নিয়োগের দাবিতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই চিত্র নোয়াপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও। এখানেও কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। আশপাশের তিনটি চা বাগানসহ হাজার হাজার মানুষ এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।

নোয়াপাড়া কেন্দ্রের মিডওয়াইফ আয়েশা বেগম বলেন, তার মূল দায়িত্ব স্বাভাবিক প্রসব সেবা দেওয়া হলেও চিকিৎসক না থাকায় তাকে সাধারণ রোগীদেরও সামলাতে হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর জানান, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।