
কথা দিয়ে কথা রেখেছেন হবিগঞ্জের শিল্পপতি ও সায়হাম নীট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতির ঝড় বয়ে যায়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও চুনারুঘাটের গোসাপাড়া গ্রামের মানুষের মতে, সেই প্রচলিত ধারণা এবার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সল। তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন দুই পুত্র—সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। তারা মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৮টি চা বাগানসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করেন।
প্রচারণাকালে তারা এলাকাবাসীর নানা সমস্যা প্রত্যক্ষ করেন, যার মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল অন্যতম। জনগণের আস্থায় বিপুল ভোটে এস. এম. ফয়সল নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তার পরিবার মানবিক কার্যক্রম শুরু করে। এর আওতায় প্রায় ৪৫ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, চাকলাপুঞ্জি চা বাগানে শ্রমিকদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং একটি নাটমন্দির নির্মাণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের গোসাপাড়া গ্রামে নিজ অর্থায়নে একটি সাবমার্সিবল গভীর নলকূপ স্থাপন করেন সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগা গ্রামবাসী এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
গোসাপাড়া গ্রামের বিএনপি সভাপতি সালাউদ্দিন বাবলু বলেন, রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু সৈয়দ ইশতিয়াক ও সৈয়দ শাফকাত যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন। গোসাপাড়ার মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পেয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান পেয়েছে।
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে মাধবপুর-চুনারুঘাটবাসীর নানাবিধ সমস্যা সামনে এসেছে। এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিশুদ্ধ পানি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সীমিত সম্পদের মধ্যেও মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
নলকূপ স্থাপনের ফলে গোসাপাড়া গ্রামের কয়েকশ পরিবার এখন নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে। গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























