ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

মাধবপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর যোগেশ চন্দ্র হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ছাত্রীকে গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল বিষয়টিকে স্পষ্ট ডিজিটাল হয়রানি ও নারী নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়রা জানান, ছুটি শেষে ব্যস্ত রাস্তায় টমটম থেকে এক যুবক গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা টিকটক ও ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। ভিডিওটিতে বিকৃত ইঙ্গিতসহ হাস্যকর ভয়েস যোগ করে ভাইরাল করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মানুষ সেই যুবককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুই বলেন, অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তির গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ (Invasion of Privacy), যা শুধু নৈতিকভাবে ভুল নয়, আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ। তিনি জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২–এর ৮ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া অশ্লীল ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ বা প্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে। তার মতে, কাউকে লক্ষ্য করে অপমানজনক বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া পর্নোগ্রাফির আওতাতেই পড়ে এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশেও এর জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে।

অভিভাবকরা বলছেন, স্কুল–কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। গোপনে ভিডিও ধারণের মতো বিকৃত মানসিকতা সমাজে অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারও অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করা সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে নারীদের ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা শেয়ার করা ডিজিটাল হয়রানির শামিল এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের মতে, এই ঘটনায় তিন ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হতে পারে—গোপনে ভিডিও ধারণ, আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো নারীর মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

মাধবপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৭:১৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর যোগেশ চন্দ্র হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ছাত্রীকে গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল বিষয়টিকে স্পষ্ট ডিজিটাল হয়রানি ও নারী নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়রা জানান, ছুটি শেষে ব্যস্ত রাস্তায় টমটম থেকে এক যুবক গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা টিকটক ও ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। ভিডিওটিতে বিকৃত ইঙ্গিতসহ হাস্যকর ভয়েস যোগ করে ভাইরাল করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মানুষ সেই যুবককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুই বলেন, অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তির গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ (Invasion of Privacy), যা শুধু নৈতিকভাবে ভুল নয়, আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ। তিনি জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২–এর ৮ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া অশ্লীল ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ বা প্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে। তার মতে, কাউকে লক্ষ্য করে অপমানজনক বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া পর্নোগ্রাফির আওতাতেই পড়ে এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশেও এর জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে।

অভিভাবকরা বলছেন, স্কুল–কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। গোপনে ভিডিও ধারণের মতো বিকৃত মানসিকতা সমাজে অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারও অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করা সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে নারীদের ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা শেয়ার করা ডিজিটাল হয়রানির শামিল এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের মতে, এই ঘটনায় তিন ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হতে পারে—গোপনে ভিডিও ধারণ, আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো নারীর মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।