ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

মাধবপুরে ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও দখলচেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় আজগর আলীর পরিবার

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের পুরাইকলা মৌজায় ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছেন ঐ গ্রামের ভুক্তভোগী মোঃ আজগর আলী।

আজগর আলী জানান, পুরাইকলা মৌজা (জে.এল–২), দাগ নং ৪৮৫-এর মোট ৩৩ শতক জমি তিনি ২০০২ সালে স্থানীয় শান্ত মিয়ার কাছ থেকে ক্রয় করেন। শান্ত মিয়া এর আগে প্রায় ৩০ বছর জমিটি ভোগদখলে রেখেছিলেন। ক্রয়ের পর টানা ২৩ বছর ধরে জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছে আজগর আলীর পরিবার। গ্রামের মুরব্বিরাও বিষয়টি জানেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ও তার পরিবার ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাঠ জরিপে প্রতারণার মাধ্যমে উক্ত জমির রেকর্ড স্থানীয় ইউসুফ খানের নামে তৈরি করা হয়। ভূমি অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়—রেকর্ড ইতোমধ্যে ইউসুফ খানের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে এস.এ. রেকর্ডভুক্ত মালিকরা জানান—তারা কখনো ইউসুফ খানের কাছে জমি বিক্রি করেননি, কোনো দলিল বা অ্যাগ্রিমেন্টও হয়নি। বরং তারা দাবি করেন, প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগে এস.এ. মালিক ২০২১ সালে বাদী হয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন, যা এখনও চলমান।

আজগর আলীর দাবি, মামলা চলাকালীন ইউসুফ খান, তার ছেলে জসিম উদ্দিন খান ও ভাই জাহাঙ্গীর আলম (আয়াত আলী) নিয়মিতভাবে তাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়—জাহাঙ্গীর আলম মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উলামা লীগের সভাপতি এবং জেলা তাঁতীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় তাদের এলাকায় ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই পদ্ধতিতে তারা অতীতেও বিভিন্ন জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। অল্প মূল্যে জমি কেনার লোভ দেখানো বা সস্তা বিনিময়ে জমি নেওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা হয়।

হুমকি-ধামকির মুখে আজগর আলী স্থানীয় সালিশ ডাকেন এবং গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ঘটনাটি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আজগর আলী বলেন,
“আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের জমি জবরদখলের চেষ্টা চলছে। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

মাধবপুরে ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও দখলচেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় আজগর আলীর পরিবার

আপডেট সময় ০৭:২৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের পুরাইকলা মৌজায় ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছেন ঐ গ্রামের ভুক্তভোগী মোঃ আজগর আলী।

আজগর আলী জানান, পুরাইকলা মৌজা (জে.এল–২), দাগ নং ৪৮৫-এর মোট ৩৩ শতক জমি তিনি ২০০২ সালে স্থানীয় শান্ত মিয়ার কাছ থেকে ক্রয় করেন। শান্ত মিয়া এর আগে প্রায় ৩০ বছর জমিটি ভোগদখলে রেখেছিলেন। ক্রয়ের পর টানা ২৩ বছর ধরে জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছে আজগর আলীর পরিবার। গ্রামের মুরব্বিরাও বিষয়টি জানেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ও তার পরিবার ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাঠ জরিপে প্রতারণার মাধ্যমে উক্ত জমির রেকর্ড স্থানীয় ইউসুফ খানের নামে তৈরি করা হয়। ভূমি অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়—রেকর্ড ইতোমধ্যে ইউসুফ খানের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে এস.এ. রেকর্ডভুক্ত মালিকরা জানান—তারা কখনো ইউসুফ খানের কাছে জমি বিক্রি করেননি, কোনো দলিল বা অ্যাগ্রিমেন্টও হয়নি। বরং তারা দাবি করেন, প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগে এস.এ. মালিক ২০২১ সালে বাদী হয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন, যা এখনও চলমান।

আজগর আলীর দাবি, মামলা চলাকালীন ইউসুফ খান, তার ছেলে জসিম উদ্দিন খান ও ভাই জাহাঙ্গীর আলম (আয়াত আলী) নিয়মিতভাবে তাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়—জাহাঙ্গীর আলম মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উলামা লীগের সভাপতি এবং জেলা তাঁতীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় তাদের এলাকায় ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই পদ্ধতিতে তারা অতীতেও বিভিন্ন জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। অল্প মূল্যে জমি কেনার লোভ দেখানো বা সস্তা বিনিময়ে জমি নেওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা হয়।

হুমকি-ধামকির মুখে আজগর আলী স্থানীয় সালিশ ডাকেন এবং গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ঘটনাটি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আজগর আলী বলেন,
“আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের জমি জবরদখলের চেষ্টা চলছে। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”