ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

মাধবপুরে বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক মাজারের ওরস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে চাঁদা উত্তোলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আল আমিন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুরে নাসিম শাহ আউলিয়া ওরফে গঙ্গা জলে মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে কমলপুর গ্রামে বাউল গানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর মাজারের কিছু ভক্ত অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। পরে আয়োজকরা অভিযোগকারীকে গান আয়োজনের জন্য অর্থ দিতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “আধ্যাত্মিকতার আড়ালে কিছু ব্যক্তি নারীসহ রাতভর গান, মদ্যপান ও অনৈতিক কার্যকলাপ করছে—যা এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতি ও মানসিক শান্তি নষ্ট করছে।”

অন্যদিকে, মাজারের খাদেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাজারবিরোধী একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমাদের অনুষ্ঠান ধর্ম ও সংস্কৃতিরই অংশ।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, “এই এলাকায় বহু বছর ধরে বাউল গান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে; কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “গানের আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা বলেন, “সংস্কৃতি ও ধর্মকে বিবাদে ফেলা ঠিক নয়। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকা জরুরি; পাশাপাশি কোনো শিল্পী বা আয়োজককে বাধাগ্রস্ত করলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।”

স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান চান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

মাধবপুরে বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:১৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক মাজারের ওরস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে চাঁদা উত্তোলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আল আমিন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুরে নাসিম শাহ আউলিয়া ওরফে গঙ্গা জলে মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে কমলপুর গ্রামে বাউল গানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর মাজারের কিছু ভক্ত অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। পরে আয়োজকরা অভিযোগকারীকে গান আয়োজনের জন্য অর্থ দিতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “আধ্যাত্মিকতার আড়ালে কিছু ব্যক্তি নারীসহ রাতভর গান, মদ্যপান ও অনৈতিক কার্যকলাপ করছে—যা এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতি ও মানসিক শান্তি নষ্ট করছে।”

অন্যদিকে, মাজারের খাদেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাজারবিরোধী একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমাদের অনুষ্ঠান ধর্ম ও সংস্কৃতিরই অংশ।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, “এই এলাকায় বহু বছর ধরে বাউল গান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে; কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “গানের আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা বলেন, “সংস্কৃতি ও ধর্মকে বিবাদে ফেলা ঠিক নয়। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকা জরুরি; পাশাপাশি কোনো শিল্পী বা আয়োজককে বাধাগ্রস্ত করলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।”

স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান চান।