
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্টার অফিসের নকল নবীস অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সহকর্মী গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধবপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, অসীম কুমার নাগ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, গত এক বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন অসীম। একাধিকবার তার বোরকা ছিঁড়ে ফেলা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
শুধু হয়রানি নয়, অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, তিনি সাব-রেজিস্টার জীতেন্দ্র লাল দাসের স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের একাধিক দলিল সরবরাহ করেছেন। একইভাবে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে অন্তত ১০টি দলিল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত অসীম কুমার নাগ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
সাবেক সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেন বলেন,
“যদি কোনো নকল নবীস স্বাক্ষর জাল করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বর্তমান সাব-রেজিস্টার মাসুদ রানা জানান,
“অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তার অপকর্ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি অফিসে আসছেন না। আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















