ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস Logo ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক নয়, ছড়ানো তথ্য ভুয়া Logo তেলিয়াপাড়া চা বাগানে গণবিক্ষোভ, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি Logo ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা, জানাল মোদি সরকার Logo ৫৫ বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ, জুলাই মাসে উদ্ধার ১৩২ কেজি Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ

মাধবপুরে নকল নবীস অসীমের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা স্বাক্ষর জালের অভিযোগও তদন্তাধীন

মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্টার অফিসের নকল নবীস অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সহকর্মী গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধবপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, অসীম কুমার নাগ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, গত এক বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন অসীম। একাধিকবার তার বোরকা ছিঁড়ে ফেলা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

শুধু হয়রানি নয়, অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, তিনি সাব-রেজিস্টার জীতেন্দ্র লাল দাসের স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের একাধিক দলিল সরবরাহ করেছেন। একইভাবে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে অন্তত ১০টি দলিল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত অসীম কুমার নাগ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

সাবেক সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেন বলেন,
“যদি কোনো নকল নবীস স্বাক্ষর জাল করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বর্তমান সাব-রেজিস্টার মাসুদ রানা জানান,
“অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তার অপকর্ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি অফিসে আসছেন না। আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস

error:

মাধবপুরে নকল নবীস অসীমের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা স্বাক্ষর জালের অভিযোগও তদন্তাধীন

আপডেট সময় ০৭:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্টার অফিসের নকল নবীস অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সহকর্মী গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধবপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, অসীম কুমার নাগ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, গত এক বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন অসীম। একাধিকবার তার বোরকা ছিঁড়ে ফেলা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

শুধু হয়রানি নয়, অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, তিনি সাব-রেজিস্টার জীতেন্দ্র লাল দাসের স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের একাধিক দলিল সরবরাহ করেছেন। একইভাবে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে অন্তত ১০টি দলিল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত অসীম কুমার নাগ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

সাবেক সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেন বলেন,
“যদি কোনো নকল নবীস স্বাক্ষর জাল করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বর্তমান সাব-রেজিস্টার মাসুদ রানা জানান,
“অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তার অপকর্ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি অফিসে আসছেন না। আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”