ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে Logo লাখাইয়ের হাওরে কচুরিপানার জট, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক Logo সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo গাঁজা সেবন ও চুরির অভিযোগে লাখাইয়ে যুবক গ্রেপ্তার Logo জামালপুরে জলাবদ্ধতায় তিন বছরে শেষ ১৩৭ মাতৃ লিচুগাছ, সরকারি উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন Logo জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কামরুল ইসলাম সভাপতি, জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরির দায় চাপানো হলো দপ্তরির কাঁধে

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের উপর। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রায় দেড় মাস আগে রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে অজ্ঞাত চোরচক্র ফ্যানগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরবর্তীতে চুরির দায় চাপানো হয় দপ্তরি সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।

অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দোষ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি প্রতিদিন অপমানে কাঁদি। এলাকাবাসীও বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”

ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে জিম্মা হয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানের জন্যও সাইদুরের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,
“সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর দোষ চাপানো হলে সে চোরের কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম বলেন,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমি নিজে দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য না দিলে আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জানা গেছে, চলতি বছর মাধবপুর উপজেলায় আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে থানায় জিডি হলেও দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন,
“চুরি হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করতে বলা হয়েছিল। এখন সিসিটিভির আওতায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়। এ ঘটনায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

error:

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরির দায় চাপানো হলো দপ্তরির কাঁধে

আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের উপর। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রায় দেড় মাস আগে রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে অজ্ঞাত চোরচক্র ফ্যানগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরবর্তীতে চুরির দায় চাপানো হয় দপ্তরি সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।

অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দোষ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি প্রতিদিন অপমানে কাঁদি। এলাকাবাসীও বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”

ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে জিম্মা হয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানের জন্যও সাইদুরের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,
“সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর দোষ চাপানো হলে সে চোরের কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম বলেন,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমি নিজে দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য না দিলে আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জানা গেছে, চলতি বছর মাধবপুর উপজেলায় আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে থানায় জিডি হলেও দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন,
“চুরি হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করতে বলা হয়েছিল। এখন সিসিটিভির আওতায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়। এ ঘটনায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।