ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরির দায় চাপানো হলো দপ্তরির কাঁধে

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের উপর। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রায় দেড় মাস আগে রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে অজ্ঞাত চোরচক্র ফ্যানগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরবর্তীতে চুরির দায় চাপানো হয় দপ্তরি সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।

অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দোষ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি প্রতিদিন অপমানে কাঁদি। এলাকাবাসীও বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”

ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে জিম্মা হয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানের জন্যও সাইদুরের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,
“সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর দোষ চাপানো হলে সে চোরের কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম বলেন,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমি নিজে দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য না দিলে আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জানা গেছে, চলতি বছর মাধবপুর উপজেলায় আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে থানায় জিডি হলেও দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন,
“চুরি হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করতে বলা হয়েছিল। এখন সিসিটিভির আওতায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়। এ ঘটনায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরির দায় চাপানো হলো দপ্তরির কাঁধে

আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের উপর। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রায় দেড় মাস আগে রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে অজ্ঞাত চোরচক্র ফ্যানগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরবর্তীতে চুরির দায় চাপানো হয় দপ্তরি সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।

অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দোষ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি প্রতিদিন অপমানে কাঁদি। এলাকাবাসীও বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”

ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে জিম্মা হয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানের জন্যও সাইদুরের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,
“সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর দোষ চাপানো হলে সে চোরের কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম বলেন,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমি নিজে দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য না দিলে আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জানা গেছে, চলতি বছর মাধবপুর উপজেলায় আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে থানায় জিডি হলেও দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন,
“চুরি হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করতে বলা হয়েছিল। এখন সিসিটিভির আওতায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়। এ ঘটনায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।