ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সজাগ থাকতে হবে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই: লাখাইয়ে জেলা প্রশাসক Logo হবিগঞ্জে ডিসি অফিসে হামলার শিকার মাহাদী হাসান, অভিযোগ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে Logo ট্রাক-বাস সংঘর্ষে আহত মাধবপুরের আব্দুল জব্বার আইসিইউতে, মানবিক সহায়তার আবেদন Logo মাধবপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আহত লিটনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩ Logo ডেপুটি রেঞ্জার আশিক মিয়ার দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবন্ধী শানু মিয়ার অভিযোগ Logo ৭ দিনের মধ্যে মিলবে লাইসেন্স Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২

মুরাদনগর ধর্ষণকাণ্ডে নতুন ভিডিও, মামলা তুলে নিতে চান ভুক্তভোগী নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলার খবরঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে ঘটনা। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক ভয়াবহ ভিডিও, যেখানে অভিযুক্ত ফজর আলীকে ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ আলী সুমনের নেতৃত্বে নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে, মামলার বাদী নারী জানিয়েছেন—তিনি না বুঝেই মামলা করেছেন এবং এখন স্বামী ও পরিবারের চাপে তা তুলে নিতে চাইছেন।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, “আমি না বুঝেই ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছি। পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনা করিনি। এখন স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মামলা চালাতে রাজি না। আমি মামলাটি তুলে নিতে চাই, সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই।”

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুমনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ফজর আলীকে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে। ফজর আলীর হাত ও মাথা থেকে রক্ত ঝরছে, অপরদিকে সেই নারীকে বিবস্ত্র করে একসাথে বেঁধে রাখা হয় এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন রাতে, উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে। স্থানীয়রা একে ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ বলে দাবি করলেও, ওই নারীর ভাষ্য—ফজর আলীর সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। পুলিশ এ ঘটনায় দুটি মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন জানান, “ওই নারী ও ফজর আলীর মধ্যে পরকীয়া ছিল। ছাত্রলীগ নেতা সুমন আগেই ফাঁদ পেতে এভাবে ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেয়।” তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ ও স্থানীয় নারী পেয়ারা বেগমসহ অনেকে জানিয়েছেন—ওই নারী ও ফজর আলীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, এবং তাদের হাতে-নাতে ধরার জন্য পরিকল্পিতভাবে লোকজন ওঁৎ পেতে ছিল।

মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, “নতুন ভিডিও এখনো আমাদের হাতে আসেনি। তবে তদন্ত চলছে এবং ভিডিও হাতে এলে তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সজাগ থাকতে হবে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই: লাখাইয়ে জেলা প্রশাসক

মুরাদনগর ধর্ষণকাণ্ডে নতুন ভিডিও, মামলা তুলে নিতে চান ভুক্তভোগী নারী

আপডেট সময় ০৩:৪১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলার খবরঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে ঘটনা। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক ভয়াবহ ভিডিও, যেখানে অভিযুক্ত ফজর আলীকে ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ আলী সুমনের নেতৃত্বে নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে, মামলার বাদী নারী জানিয়েছেন—তিনি না বুঝেই মামলা করেছেন এবং এখন স্বামী ও পরিবারের চাপে তা তুলে নিতে চাইছেন।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, “আমি না বুঝেই ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছি। পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনা করিনি। এখন স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মামলা চালাতে রাজি না। আমি মামলাটি তুলে নিতে চাই, সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই।”

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুমনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ফজর আলীকে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে। ফজর আলীর হাত ও মাথা থেকে রক্ত ঝরছে, অপরদিকে সেই নারীকে বিবস্ত্র করে একসাথে বেঁধে রাখা হয় এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন রাতে, উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে। স্থানীয়রা একে ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ বলে দাবি করলেও, ওই নারীর ভাষ্য—ফজর আলীর সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। পুলিশ এ ঘটনায় দুটি মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন জানান, “ওই নারী ও ফজর আলীর মধ্যে পরকীয়া ছিল। ছাত্রলীগ নেতা সুমন আগেই ফাঁদ পেতে এভাবে ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেয়।” তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ ও স্থানীয় নারী পেয়ারা বেগমসহ অনেকে জানিয়েছেন—ওই নারী ও ফজর আলীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, এবং তাদের হাতে-নাতে ধরার জন্য পরিকল্পিতভাবে লোকজন ওঁৎ পেতে ছিল।

মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, “নতুন ভিডিও এখনো আমাদের হাতে আসেনি। তবে তদন্ত চলছে এবং ভিডিও হাতে এলে তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”