
বাংলার খবর ডেস্ক:
দেরিতে আসা এক প্রবাসীর লাগেজ নির্ধারিত ঠিকানায় হোম ডেলিভারি না দিয়ে মহাসড়কের একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘটনাটি উঠে আসে। ওই প্রবাসী লাগেজ হোম ডেলিভারির জন্য কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি ঠিকানা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান জেটলাইন্স সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নির্ধারিত ঠিকানায় লাগেজ পৌঁছে না দিয়ে তাঁকে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় ডেকে নেয়।
ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, হোম ডেলিভারির জন্য তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ করেছে। অন্যদিকে, ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নির্ধারিত ঠিকানার পরিবর্তে মহাসড়কের একটি স্থানে লাগেজ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে প্রতিষ্ঠানটির দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সব এয়ারলাইন্সকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও প্রবাসীদের হয়রানি করা হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে লাগেজ দেরিতে পৌঁছালে সাধারণত সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নীতিমালা ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী যাত্রীর বাসা বা হোটেলে বিনা খরচে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো লাগেজে শুল্কযোগ্য পণ্য শনাক্ত করলে যাত্রীকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে তা ছাড় করাতে হতে পারে।
বিমানবন্দরে লাগেজ না পেলে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ কাউন্টারে গিয়ে প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট (পিআইআর) ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মের কপি ও ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি সঠিক ডেলিভারি ঠিকানা নিশ্চিত করাও জরুরি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, লাগেজ দেরিতে পৌঁছালে হোম ডেলিভারির পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে তিন হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন লাগেজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২১ দিনের মধ্যে লাগেজ ফেরত না পেলে ক্ষতিপূরণ দাবিও করা যেতে পারে।
লাগেজসংক্রান্ত অভিযোগ বা পরামর্শের জন্য বিমানবন্দর হটলাইন ১৩৬০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩০৪০৫০৬০৩-এ অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
যাত্রীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 









