ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় Logo তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার Logo চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ রায়

বাংলার খবর ডেস্ক:

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

হানিফ ছাড়া মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এর আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে হানিফসহ এই মামলার আসামিদেরও সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসিকিউটর তামীমের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের। এর ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

তামীম আরও বলেন, আন্দোলন দমনসংক্রান্ত টেলিফোনে কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ, বিভিন্ন দালিলিক নথি ও মৌখিক সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

গত ৫ অক্টোবর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। এর জবাবে ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

এর আগে গত ১০ জুনও প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এরপর দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে নতুন করে রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছিলেন, তাঁদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে আন্দোলন যেকোনোভাবে দমন করার। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে ওই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রভাবে কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছিল।

এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট—আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যসংবলিত একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে আসামিরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান। দ্বিতীয় অভিযোগে রয়েছে, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া। তৃতীয় অভিযোগটি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের দায়সংক্রান্ত।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়।

গত বছরের ৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এরপর একই বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ মামলাটির রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ রায়

error:

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ রায়

আপডেট সময় ১২:২১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক:

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

হানিফ ছাড়া মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এর আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে হানিফসহ এই মামলার আসামিদেরও সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসিকিউটর তামীমের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের। এর ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

তামীম আরও বলেন, আন্দোলন দমনসংক্রান্ত টেলিফোনে কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ, বিভিন্ন দালিলিক নথি ও মৌখিক সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

গত ৫ অক্টোবর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। এর জবাবে ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

এর আগে গত ১০ জুনও প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এরপর দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে নতুন করে রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছিলেন, তাঁদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে আন্দোলন যেকোনোভাবে দমন করার। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে ওই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রভাবে কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছিল।

এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট—আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যসংবলিত একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে আসামিরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান। দ্বিতীয় অভিযোগে রয়েছে, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া। তৃতীয় অভিযোগটি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের দায়সংক্রান্ত।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়।

গত বছরের ৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এরপর একই বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ মামলাটির রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।