ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম Logo মজুরি দাবিতে পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট Logo হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo হাইমচরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, শতাধিক শিক্ষার্থীকে সচেতনতা

হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে হত্যার দায়ে জামাতা অলিউর রহমান অলি (৪২)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক কাঁকন দে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অলিউর রহমান অলি মাধবপুর উপজেলার তুলশীপুর (অলিপুর) গ্রামের মো. ইউনুছ আলীর ছেলে। আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মে সকালে অলিউর রহমান অলি তাঁর শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন জাহানারা বেগম। ওই বছরের ১ জুন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে একটি বেতবাগান থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে নিহতের ছেলে মো. মিজানুর রহমান মরদেহটি তাঁর মা জাহানারা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অলিউর রহমান অলির বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. গুলজার আহমেদ খান।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটি ছিল ক্লুলেস হত্যা। আসামির ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া, স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বীকারোক্তি, তাঁদের একসঙ্গে অবস্থানের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং বিচার চলাকালে ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, হত্যা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং যথাযথ ফরেনসিক পরীক্ষা অপরাধ উদ্‌ঘাটন, আসামি শনাক্তকরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা

error:

হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৬:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে হত্যার দায়ে জামাতা অলিউর রহমান অলি (৪২)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক কাঁকন দে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অলিউর রহমান অলি মাধবপুর উপজেলার তুলশীপুর (অলিপুর) গ্রামের মো. ইউনুছ আলীর ছেলে। আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মে সকালে অলিউর রহমান অলি তাঁর শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন জাহানারা বেগম। ওই বছরের ১ জুন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে একটি বেতবাগান থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে নিহতের ছেলে মো. মিজানুর রহমান মরদেহটি তাঁর মা জাহানারা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অলিউর রহমান অলির বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. গুলজার আহমেদ খান।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটি ছিল ক্লুলেস হত্যা। আসামির ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া, স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বীকারোক্তি, তাঁদের একসঙ্গে অবস্থানের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং বিচার চলাকালে ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, হত্যা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং যথাযথ ফরেনসিক পরীক্ষা অপরাধ উদ্‌ঘাটন, আসামি শনাক্তকরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।