ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরের সীমান্তের দুই ইউনিয়নে গরু চুরির আতঙ্ক, কয়েক মাসে ১৫টি চুরির অভিযোগ Logo হাইমচরে ৫ উদ্যোক্তার মাঝে ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ Logo চুনারুঘাটে পুলিশের অভিযানে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন গ্রেপ্তার Logo সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে অনিয়ম ঠেকাতে লটারি, ঢাকায় ১৮ জন নির্বাচিত Logo মাধবপুরে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে সচেতনতা র‍্যালি ও মতবিনিময় সভা Logo হাইমচরে মোবাইলকোর্টে ৫ ফার্মেসিকে ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা Logo নোয়াপাড়া বাজারে দুই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে নোয়াপাড়া বাজারে দুই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা Logo বাকশাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ সিলিং ফ্যান দিলেন মোত্তাকিম চৌধুরী Logo সেলিম হত্যা মামলা: সুনামগঞ্জ থেকে এজাহারনামীয় আসামি জামাল গ্রেপ্তার

মাধবপুরের সীমান্তের দুই ইউনিয়নে গরু চুরির আতঙ্ক, কয়েক মাসে ১৫টি চুরির অভিযোগ

মাধবপুর প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ২ নম্বর চৌমুহনী ও ১ নম্বর ধর্মঘর ইউনিয়নে গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাসে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে কৃষক ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সর্বশেষ বুধবার গভীর রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম হৃদয়ের গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। পরে পাশের বিষ্ণপুর গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, ভোর হয়ে যাওয়ায় চোরেরা গরুগুলো নিয়ে যেতে পারেনি।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর গ্রামের কৃষক ইমাম হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। প্রতিদিনের মতো রাতে গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রাখার পর গভীর রাতে গোয়ালঘরের দরজা খুলে গরু দুটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ জুন ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রহমান সরদারের চারটি গরু এবং রসুলপুর গ্রামের ইয়ামিনের দুটি গরু চুরি হয়। একই রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মোহাম্মদ কফিজুল মিয়ার দুটি গরুও চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নুরুল্লাহপুর গ্রামের ফাতেমা বেগমের গোয়ালঘর থেকেও দুটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর অনেক কৃষককে গোয়ালঘর পাহারা দিতে হচ্ছে। কেউ কেউ রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু নিয়ে যাচ্ছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতের পুলিশের টহল বাড়ানো, স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা করা এবং চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গরু চুরি ঠেকাতে পুলিশ কাজ করছে। রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও পাহারার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, শুধু রাতের টহল বাড়ালেই হবে না, গরু চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চুরির আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরের সীমান্তের দুই ইউনিয়নে গরু চুরির আতঙ্ক, কয়েক মাসে ১৫টি চুরির অভিযোগ

error:

মাধবপুরের সীমান্তের দুই ইউনিয়নে গরু চুরির আতঙ্ক, কয়েক মাসে ১৫টি চুরির অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ২ নম্বর চৌমুহনী ও ১ নম্বর ধর্মঘর ইউনিয়নে গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাসে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে কৃষক ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সর্বশেষ বুধবার গভীর রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম হৃদয়ের গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। পরে পাশের বিষ্ণপুর গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, ভোর হয়ে যাওয়ায় চোরেরা গরুগুলো নিয়ে যেতে পারেনি।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর গ্রামের কৃষক ইমাম হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। প্রতিদিনের মতো রাতে গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রাখার পর গভীর রাতে গোয়ালঘরের দরজা খুলে গরু দুটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ জুন ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রহমান সরদারের চারটি গরু এবং রসুলপুর গ্রামের ইয়ামিনের দুটি গরু চুরি হয়। একই রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মোহাম্মদ কফিজুল মিয়ার দুটি গরুও চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নুরুল্লাহপুর গ্রামের ফাতেমা বেগমের গোয়ালঘর থেকেও দুটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর অনেক কৃষককে গোয়ালঘর পাহারা দিতে হচ্ছে। কেউ কেউ রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু নিয়ে যাচ্ছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতের পুলিশের টহল বাড়ানো, স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা করা এবং চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গরু চুরি ঠেকাতে পুলিশ কাজ করছে। রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও পাহারার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, শুধু রাতের টহল বাড়ালেই হবে না, গরু চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চুরির আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।