
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ২ নম্বর চৌমুহনী ও ১ নম্বর ধর্মঘর ইউনিয়নে গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাসে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে কৃষক ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সর্বশেষ বুধবার গভীর রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম হৃদয়ের গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। পরে পাশের বিষ্ণপুর গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, ভোর হয়ে যাওয়ায় চোরেরা গরুগুলো নিয়ে যেতে পারেনি।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর গ্রামের কৃষক ইমাম হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। প্রতিদিনের মতো রাতে গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রাখার পর গভীর রাতে গোয়ালঘরের দরজা খুলে গরু দুটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ জুন ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রহমান সরদারের চারটি গরু এবং রসুলপুর গ্রামের ইয়ামিনের দুটি গরু চুরি হয়। একই রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মোহাম্মদ কফিজুল মিয়ার দুটি গরুও চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নুরুল্লাহপুর গ্রামের ফাতেমা বেগমের গোয়ালঘর থেকেও দুটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর অনেক কৃষককে গোয়ালঘর পাহারা দিতে হচ্ছে। কেউ কেউ রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু নিয়ে যাচ্ছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতের পুলিশের টহল বাড়ানো, স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা করা এবং চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গরু চুরি ঠেকাতে পুলিশ কাজ করছে। রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও পাহারার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, শুধু রাতের টহল বাড়ালেই হবে না, গরু চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চুরির আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















