
ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। প্রস্তাবিত সংশোধনে সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদে বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সালাউদ্দিন আহমদ।
এদিন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সভায় সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। অনেকেই লিখিত প্রস্তাব দেবেন বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক। এসব মতামত ও প্রস্তাব প্রতিবেদন ও পুস্তিকা আকারে সংকলনের কথাও জানান তিনি।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আসতে পারে। এর মধ্যে প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের গণভোটের প্রয়োজন হবে। সংসদে বিল পাসের পর এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অনেকে বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটির পক্ষ থেকেও বিরোধী দলগুলোকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষার বিষয়েও একটি প্রস্তাবের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে সহজে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটির অগ্রাধিকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতিগুলোও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের বিষয়টিও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রস্তুত করা হবে। এরপর আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের আশা করা হচ্ছে। সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিল পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















