
শেখ ইমন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুরে তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তিতাস নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীর।
হরিপুর বিএনপি ও হরিপুর মানবকল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এবং আর্টিন ফার্নিচারের সৌজন্যে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের ‘শাপলা বয়েজ ক্লাব’-এর নৌকা।
নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ নৌকা ও ট্রলারে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ এবং নৌকার দ্রুতগতির লড়াই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। নদী, মানুষ ও গ্রামীণ জীবন-সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা নৌকা বাইচ বাংলার অন্যতম ঐতিহ্য। ভবিষ্যতেও তিতাস নদীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা সৌদি আরবপ্রবাসী আল আমিন মিয়া বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের প্রাণের উৎসব। আমি ঢাকায় ছিলাম। বাইচ দেখতে আজ সকালে অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছি। নদীর দুই পাড়ে মানুষের উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। এই আনন্দ উৎসবে এসে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।”
দর্শনার্থী জাকির হোসেন বলেন, “নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গোটা এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। আমরা আনন্দিত। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সংসদ সদস্য এম. এ. মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এফরান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী বিশ্বনাথন আনন্দ, নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে. এম. বশির উদ্দিন তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম, সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল মিয়া এবং আর্টিন ফার্নিচারের চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিন হোসাইন রোমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিতন আলী ফকির। সার্বিক আয়োজনে হরিপুর মানবকল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। নৌকা বাইচকে ঘিরে দিনব্যাপী উৎসবের আবহে হরিপুরের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে তিতাস নদী ও হরিপুরের লোকজ সংস্কৃতির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















