
মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় থেকে পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভুবন গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে কাদা ও খানাখন্দ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নাসিরনগর সদরসহ চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সড়কের বেহাল দশা নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় এক বাসিন্দার মাইকিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৯ আগস্ট সৈয়দ মৌলুদ নামে ওই ব্যক্তি মাইকিং করে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ১ কিলোমিটার। এর মধ্যে নাসিরনগর সদর থেকে পূর্বভাগের ভুবন পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১৮ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের কাজটি পায় মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট হওয়ার কথা—১৮ ফুট পাকা ও ছয় ফুট মাটির অংশ।
২০২৫ সালের ২৮ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে ২০২৬ সালের ৪ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবারও ২০২৭ সালের ৪ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নাসিরনগর কলেজ মোড় থেকে ফুলপুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। ফুলপুর সেতু থেকে নুরপুর সড়ক বাজারের আগ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ম্যাকাডাম করা হয়েছে। নুরপুর বাজারের প্রায় ২০০ মিটার অংশে ঢালাই হয়েছে। নুরপুর থেকে চৈয়ারকুড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার ম্যাকাডাম করা হলেও বৃষ্টিতে সেখানে অসংখ্য খানাখন্দ ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। আর চৈয়ারকুড়ি বাজার থেকে ভুবন পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।
ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ও নুরপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফুলবাহার বলেন, সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একজন বয়স্ক মানুষ, রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে এ সড়ক দিয়ে নিয়ে আসা অনেকটা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
নাসিরনগর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের কাজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেছে। কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী খায়রুল হাসান বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ থাকে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে। বন বিভাগের গাছ কাটতে সময় লাগায় সড়কের কাজ বুঝে পেতেও বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন নাসিরনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, ঠিকাদার আবারও কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। এবার দ্রুত কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
নাসিরনগর সদর, গোকর্ণ, পূর্বভাগ ও হরিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পাশাপাশি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মানুষও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা ও কাদার দুর্ভোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















