ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৮ দিন পর দুই ইউনিটে উৎপাদনে ফিরল রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি ২৩ সেপ্টেম্বর Logo সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার Logo জামালপুরে বিচারকের বাসায় চুরি: আরও ৫ জন গ্রেপ্তার, আগের ৫ জন জড়িত নন Logo আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের পাশে কিশোরের মরদেহ, উদ্ধারে বিজিবি-বিএসএফের সমন্বয়ের উদ্যোগ Logo আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট Logo সায়হাম গ্রুপের কারখানা পরিদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচা তুলা প্রতিনিধি দল Logo মাধবপুরে নবাগত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ Logo ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি নিয়ে মাধবপুরে বিভ্রান্তি Logo সেবার মানোন্নয়নে পরিবর্তন, দালাল তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

জামালপুরে বিচারকের বাসায় চুরি: আরও ৫ জন গ্রেপ্তার, আগের ৫ জন জড়িত নন

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:
জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চোরচক্রের তিন সদস্য এবং চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে দুইজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রূপার অলংকারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে সদর থানা পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে পিবিআইয়ের তদন্তে তাদের সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পিবিআই।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় আনোয়ার হোসেনের ভবনের তৃতীয় তলায় বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্রের সদস্যরা জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে নগদ এক লাখ টাকা এবং প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পরদিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল (২৪) ও বিশালকে (২১) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়া (২৪) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চোরচক্রের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর পৌর শহরের বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালংকারের ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার এলাকা থেকে মোশারফ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩ দশমিক ১৯ গ্রাম স্বর্ণ, রূপান্তর করা স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রূপার অলংকার জব্দ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তের শুরুতে সদর থানা পুলিশ একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন—জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক ও শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চান মিয়া ওরফে কালাচান (৫০), মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২) এবং সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়ার হাওয়া বেগম (৩০)।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

তবে পিবিআইয়ের তদন্তে আগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই পাঁচজনের সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রুপম কুমার সরকার।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আগে পুলিশ যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের জবানবন্দির সঙ্গে কললিস্ট যাচাই করে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পাঁচজন চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। নিরলস প্রচেষ্টার পর আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত তিনজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত প্রথমে সদর থানা পুলিশ শুরু করে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

৮ দিন পর দুই ইউনিটে উৎপাদনে ফিরল রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

error:

জামালপুরে বিচারকের বাসায় চুরি: আরও ৫ জন গ্রেপ্তার, আগের ৫ জন জড়িত নন

আপডেট সময় ০৯:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:
জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চোরচক্রের তিন সদস্য এবং চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে দুইজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রূপার অলংকারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে সদর থানা পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে পিবিআইয়ের তদন্তে তাদের সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পিবিআই।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় আনোয়ার হোসেনের ভবনের তৃতীয় তলায় বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্রের সদস্যরা জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে নগদ এক লাখ টাকা এবং প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পরদিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল (২৪) ও বিশালকে (২১) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়া (২৪) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চোরচক্রের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর পৌর শহরের বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালংকারের ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার এলাকা থেকে মোশারফ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩ দশমিক ১৯ গ্রাম স্বর্ণ, রূপান্তর করা স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রূপার অলংকার জব্দ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তের শুরুতে সদর থানা পুলিশ একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন—জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক ও শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চান মিয়া ওরফে কালাচান (৫০), মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২) এবং সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়ার হাওয়া বেগম (৩০)।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

তবে পিবিআইয়ের তদন্তে আগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই পাঁচজনের সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রুপম কুমার সরকার।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আগে পুলিশ যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের জবানবন্দির সঙ্গে কললিস্ট যাচাই করে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পাঁচজন চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। নিরলস প্রচেষ্টার পর আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত তিনজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত প্রথমে সদর থানা পুলিশ শুরু করে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।