ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম Logo মজুরি দাবিতে পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট

চেক ডিজঅনার মামলায় আপস ও টাকা পরিশোধ হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

বাংলার খবর ডেস্ক: চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো কিংবা কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন।
রায়ে আদালত বলেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাগারে পাঠানো নয়; বরং পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করাই এ ধরনের মামলার প্রধান লক্ষ্য। ফলে চেকের অর্থ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করে পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়ে গেলে দণ্ডিত ব্যক্তির কারাদণ্ড বহাল রাখার প্রয়োজন নেই।
‘মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলায় দেওয়া এ রায়ে আদালত দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটিতে রায় ঘোষণার সময় আবেদনকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিবাদীপক্ষে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী ছিলেন মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক দেন।
২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে আইন অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে তার বিরুদ্ধে নালিশি সিআর মামলা করা হয়।
মামলাটি ২০১২ সালে বিচারের জন্য সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালত এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মো. আবদুল হান্নান মাস্টারকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করেন।
পরবর্তীতে চেকের টাকা ও ব্যাংকের পাওনাদি পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট ওই দণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার

error:

চেক ডিজঅনার মামলায় আপস ও টাকা পরিশোধ হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১২:০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক: চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো কিংবা কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন।
রায়ে আদালত বলেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাগারে পাঠানো নয়; বরং পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করাই এ ধরনের মামলার প্রধান লক্ষ্য। ফলে চেকের অর্থ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করে পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়ে গেলে দণ্ডিত ব্যক্তির কারাদণ্ড বহাল রাখার প্রয়োজন নেই।
‘মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলায় দেওয়া এ রায়ে আদালত দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটিতে রায় ঘোষণার সময় আবেদনকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিবাদীপক্ষে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী ছিলেন মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক দেন।
২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে আইন অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে তার বিরুদ্ধে নালিশি সিআর মামলা করা হয়।
মামলাটি ২০১২ সালে বিচারের জন্য সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালত এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মো. আবদুল হান্নান মাস্টারকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করেন।
পরবর্তীতে চেকের টাকা ও ব্যাংকের পাওনাদি পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট ওই দণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।