
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন বাজার হাসপাতাল সড়কসংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে নিখিল পালের মালিকানাধীন একটি কারখানার বিরুদ্ধে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাতের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে অনিরাপদ পানি, কৃত্রিম রং ও অনুমোদনহীন মিষ্টিকারক ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কারখানাটির উৎপাদন ব্যবস্থা ও ব্যবহৃত উপকরণের মান পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা এফ জামান ফখরুল বলেন, খাবারে ব্যবহারের অনুপযোগী রাসায়নিক রং বা ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করা হলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারখানার পানি ও উপকরণ পরীক্ষা এবং উৎপাদন পরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা প্রয়োজন।
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহাবুব রহমান বলেন, কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাদ্য শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উপকরণ ও উৎপাদন পরিবেশ পরীক্ষা করা জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি জানা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদন ছাড়া বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক নিখিল পাল বলেন, “আইসক্রিম কারখানা চালাতে আমার কোনো অনুমোদন লাগে না। আমি প্রশাসন ম্যানেজ করে ব্যবসা করি।”
মালিকের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র, খাদ্য উৎপাদনের অনুমোদন, ব্যবহৃত পানি ও উপকরণের মান এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহারের বৈধতা দ্রুত যাচাই করা হোক।
স্থানীয়দের আরও দাবি, শুধু আশ্বাসের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে আইসক্রিমের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















