
হামিদুর রহমান,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত একটি জরাজীর্ণ সেতু। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটি বর্তমানে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, ভারী যানবাহন তো দূরের কথা, ছোট যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন চা শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে এবং সংযোগ সড়কের একাংশ ভেঙে খালের দিকে নেমে গেছে। স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অস্থায়ীভাবে রক্ষার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। সেতুর নিচে ভাঙন ঠেকাতে কিছু অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চা বোঝাই যানবাহন, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী গাড়ি এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার বলেন, “সেতুটি অনেক পুরোনো। বর্তমানে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে চা পাতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।”
চা শ্রমিক রাজীবর গোয়ালা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছি। এখন সেতুর অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলে আরও ভয় লাগে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতেও চিন্তা হয়। প্রতিদিন চা বাগানের মালামাল পরিবহন করতে হয়, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। সরকারের কাছে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য বহুবার আবেদন করেছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শ্রমিক নেতা প্রদীপ কৈরি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে সেতুটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের নানা আশ্বাস মিললেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ অথবা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল নবী বলেন, “সেতুটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, “সুরমা চা বাগান এলাকার মানুষের জন্য সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, সুরমা চা বাগান এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্পের স্বার্থে সেতুটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















