
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেছেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও বাড়াতে হবে। ঈদের শিক্ষা কেবল আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
বৃহস্পতিবার সকালে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া আল-আরাফাহ ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার জামাত শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঈদগাহ ময়দানে ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এমপি ফয়সল বলেন, “আমাদের এলাকায় এখনও মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে জনগণকে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ধাপে ধাপে সব সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি এলাকায় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “মানুষ যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, সেজন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।”
তিনি বলেন, “মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের সেবা করাকে আমি পবিত্র দায়িত্ব মনে করি। আমার কাজ করার সাহস, সততা ও মনোবল রয়েছে। গত তিন মাসে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি।”
এমপি ফয়সল আরও বলেন, “আগে সংসদ সদস্যের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থের সঠিক হিসাব মানুষ জানতে পারত না। কিন্তু এবার ঈদ উপলক্ষে জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের সব অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। জনগণের টাকা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই আমি সেটাকে ইবাদত মনে করি।”
ঈদগাহে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সৈয়দ শাফকাত আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















