
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় দেশের রাজনীতির চিত্র আমূল পাল্টে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের নারীরা এখনো অনিরাপদ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি গভীরভাবে প্রোথিত। মুক্তিযুদ্ধ এমন বাংলাদেশের জন্য হয়নি, যেখানে ভোট নেওয়ার পর জনগণের মর্যাদা রক্ষা করা হয় না।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সকল প্রকার বিভাজন ও বৈষম্যের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে। ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি কিংবা মানুষকে বঞ্চিত করার রাজনীতি তারা সমর্থন করে না। তাঁর দাবি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে রাজনীতিতে বংশগত প্রভাব বন্ধ হবে এবং রাজনীতিকরা জনগণের সেবকে পরিণত হবে। আর ‘হ্যাঁ’ ভোট পরাজিত হলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে পরিবর্তন না আসার পেছনে অসৎ নেতৃত্বকে দায়ী করে জামায়াত আমীর বলেন, লুণ্ঠনকারী জনপ্রতিনিধি দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে টাকার বিনিময়ে বিচার বিক্রির সুযোগ থাকবে না এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে রাখা হবে।
এগারো দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যরা অযৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অর্থে ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি কিংবা স্বল্পমূল্যে প্লট নেওয়ার সংস্কৃতি তারা চালু করবেন না।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও অনাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিতে হবে। এগারো দল কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলবে, যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে এবং সম্মিলিতভাবে একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করবে।
হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় চারটি সংসদীয় আসনে এগারো দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন হয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























