
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
“চুনারুঘাট ও মাধবপুরকে সুখ, শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই আমার জীবনের স্বপ্ন। কেউ কারো ভাগ্য নিয়ে খেলা করতে পারবে না, অন্যায়ের বিচার হবেই।” — মিরাশি ইউনিয়নে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এমন ঘোষণা দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোঃ ফয়সল।
তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ইতিহাস অন্যায়কে ছাড় দেয় না। “আজ বাংলার মাটিতে অন্যায়ের বিচার শুরু হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার কেউ চিরদিন ধরে রাখতে পারে না,”—যোগ করেন তিনি।
৩৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে ফয়সল বলেন, তিনি নিজেই চুনারুঘাট–মাধবপুরে বিএনপির বীজ বপন করেছিলেন। অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় এ অঞ্চলে বিএনপি এখন শক্তিশালী সংগঠন।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে সবসময় মূল্যায়ন করেছেন। এবারও দলের স্থায়ী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে জনগণের সামনে পাঠিয়েছেন।
পরিবারের ওপর রাজনৈতিক নির্যাতনের প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, তাঁর ভাই সাবেক কৃষিপ্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সারকে বছরের পর বছর কারাগারে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে তাঁর অন্য ভাই, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহানসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে রাষ্ট্রদোহ মামলা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “আমার ভাইয়ের জানাজায় মানুষকে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমরা সেই বিচার আল্লাহর হাতে সোপর্দ করেছিলাম। আজ আল্লাহর আদালতে সেই জুলুমের বিচার হতে দেখছি।”
নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস সম্পর্কে ফয়সল বলেন, তাঁর মধ্যে নেই লোভ, লালসা, প্রতিহিংসা বা বিদ্বেষ—আছে শুধু সততা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং এলাকার উন্নয়নের অঙ্গীকার। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন। আমি আপনাদের একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত চুনারুঘাট–মাধবপুর উপহার দেব।”
সভায় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান, মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ আলী, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
















