ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান, ড্রেজার-বেকো-পাইপ ধ্বংস Logo মাধবপুরের কৃষকপুত্র আশেক মিয়ার বিসিএস জয়, শিক্ষা ক্যাডারে গেজেটভুক্ত Logo মাদক সেবনে বাবা-মাকে মারধর, যুবকের ৬ মাসের জেল Logo মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসারদের আবাসনে চরম দুর্ভোগ, তিন মাসেও মেলেনি ফ্যান Logo মাধবপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান Logo মাধবপুরের আব্দুল কাইয়ুমের ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সাফল্য Logo হবিগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ৮১৫ কোটি টাকার প্রকল্প: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo সার ডিলার নিয়োগের তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে, চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি Logo নাসিরনগরে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত Logo হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মসজিদ সংরক্ষণে উদাসীনতা — ক্ষোভ স্থানীয়দের

**বাংলার খবর ডেস্ক:**

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দেওগাঁও গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো এক প্রাচীন মসজিদ আজও মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন বহন করছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের ধারণা, মধ্যযুগে নির্মিত এই মসজিদটি একসময় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল।

মসজিদটির দেয়াল ও স্তম্ভে পাথরে খোদাই করা ফারসি ভাষার শিলালিপি রয়েছে, যা এর বয়স ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাক্ষ্য বহন করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাকৃতিক ক্ষয় ও অবহেলার কারণে এর গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবুও এখনো স্থাপত্যশৈলীর অনন্য সৌন্দর্য ধরে রেখেছে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি।

বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মানত ও দোয়া নিয়ে এই মসজিদে আসেন। ধর্মীয় গুরুত্ব ছাড়াও এটি স্থানীয় পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে আংশিক সংস্কার করলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা বলেন, “এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে অমূল্য এক ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।”

স্থানীয় সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি মসজিদটি সংরক্ষণের দাবিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। তাঁর উদ্যোগে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মসজিদটির সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এছাড়া দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি রোকনুদ্দিন লস্কর এ নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গর্ব। এটিকে সংরক্ষণ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।”

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মসজিদটি পরিদর্শন করলেও তৎপরবর্তী সময়ে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, দ্রুত যদি মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূর্ণ সংরক্ষণাধীন ঘোষণা করা যায়, তবে এটি হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে।

মাধবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান, ড্রেজার-বেকো-পাইপ ধ্বংস

error:

৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মসজিদ সংরক্ষণে উদাসীনতা — ক্ষোভ স্থানীয়দের

আপডেট সময় ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

**বাংলার খবর ডেস্ক:**

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দেওগাঁও গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো এক প্রাচীন মসজিদ আজও মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন বহন করছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের ধারণা, মধ্যযুগে নির্মিত এই মসজিদটি একসময় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল।

মসজিদটির দেয়াল ও স্তম্ভে পাথরে খোদাই করা ফারসি ভাষার শিলালিপি রয়েছে, যা এর বয়স ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাক্ষ্য বহন করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাকৃতিক ক্ষয় ও অবহেলার কারণে এর গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবুও এখনো স্থাপত্যশৈলীর অনন্য সৌন্দর্য ধরে রেখেছে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি।

বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মানত ও দোয়া নিয়ে এই মসজিদে আসেন। ধর্মীয় গুরুত্ব ছাড়াও এটি স্থানীয় পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে আংশিক সংস্কার করলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা বলেন, “এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে অমূল্য এক ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।”

স্থানীয় সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি মসজিদটি সংরক্ষণের দাবিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। তাঁর উদ্যোগে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মসজিদটির সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এছাড়া দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি রোকনুদ্দিন লস্কর এ নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গর্ব। এটিকে সংরক্ষণ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।”

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মসজিদটি পরিদর্শন করলেও তৎপরবর্তী সময়ে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, দ্রুত যদি মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূর্ণ সংরক্ষণাধীন ঘোষণা করা যায়, তবে এটি হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে।