
বাংলার খবর ডেস্ক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একক প্রার্থী নির্ধারণে চূড়ান্ত ধাপের কাজ শেষ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোনয়ন না পেয়েও কেউ যদি বিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আসনভিত্তিক বিরোধ মেটাতে একাধিক বৈঠকের পর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন আর কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে না থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী এখন বিএনপির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়। তারা আসনভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণা করে ইতোমধ্যেই প্রচারণায় নেমেছে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, গণসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনভিত্তি যাচাই করেই প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যার সাথে জনগণের সংযোগ আছে, যার প্রতি মানুষের আস্থা আছে, তাকে বেছে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এ কারণেই প্রক্রিয়াটি সময় নিচ্ছে।”
জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং একাধিক পর্যায়ে জরিপের মাধ্যমে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব আসনে দলটি কৌশলগতভাবে অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
২০১৮ সালের নির্বাচনে এক আসনে একাধিক মনোনয়ন দিয়ে সমালোচিত হয়েছিল বিএনপি। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি শুরু থেকেই সতর্ক। দক্ষ সংগঠক, আন্দোলনে ভূমিকা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা— এসব মানদণ্ডে নতুন প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের মনোনয়নে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলনের ভূমিকা, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা এবং তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব— সবকিছু বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হচ্ছে।”
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়েও আলোচনা চলছে। মিত্রদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থী থাকলে সর্বোচ্চ ৫০টি আসন ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। তবে আসল সমঝোতা তফসিল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে বলে দলটির নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 










