ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যকে জয়ধর হিরুর অভিনন্দন Logo সাংবাদিকতার যোগ্যতা নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা Logo সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ‘স্কুল মিল’ চালুর উদ্যোগ Logo দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর Logo এনসিপি নেতার মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ নেতাকর্মীর জামিন Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে

অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত জগদীশপুর চা বাগান: শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন

Oplus_0

হামিদুর রহমান,মাধবপুর (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড় সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী জগদীশপুর চা বাগান আজ অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শত চেষ্টা সত্ত্বেও বাগানটি লাভের মুখ দেখছে না, বরং প্রতিবছর লোকসানে ডুবে যাচ্ছে। এই লোকসানের ভার গিয়ে পড়ছে সরাসরি সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে জগদীশপুর সহ ১২ টি চা বাগান নিয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানি গঠিত হয়।

সরকারি মালিকানাধীন ১২টি চা বাগানের মধ্যে জগদীশপুর অন্যতম, যা জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে জাতীয়তরণ করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১১০০ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু গত ১৬ বছর ধরে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু আমলা, কর্মকর্তা ও পরিচালকের যোগসাজশে বাগানটি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে এনটিসির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের সময়কালে দুর্নীতি বেড়ে যায়। জানা গেছে, পরিচালক নাফিশ শরাফতের পরিবারের সদস্যদের নামে এনটিসির ৫১% শেয়ারের সিংহভাগ কেনা হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জগদীশপুর চা বাগানে। প্রতি বছর নতুন বাগান তৈরির নামে কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো ফল দেখা যায় না। নার্সারিতে মানসম্পন্ন চারা না থাকায় নতুন চা গাছ নষ্ট হচ্ছে, সার-কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার না থাকায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

চা পাতার মান খারাপ হওয়ায় নিলাম বাজারে এর দাম কম, ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও আয়—কোনোটিই সম্ভব হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানে ছায়াবৃক্ষ নেই বললেই চলে, গাছগুলোও প্রায় মরাপ্রায়। শ্রমিকরা নিম্নমানের কালো চা পাতা সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে বিক্রি করা কঠিন।

প্রতিবছর যন্ত্রাংশ কেনা ও মেরামতের নামে কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের জীবনযাপন এখন মানবেতর। দুই বছর ধরে শ্রমিকদের রেশন তলব বন্ধ বা অনিয়মিত। অনেক শ্রমিক পরিবার সপ্তাহশেষে রেশন না পেয়ে না খেয়ে থাকেন। ঘরবাড়ি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেই, হাসপাতাল বলতে একটি জরাজীর্ণ ঘর, যার মধ্যেও চিকিৎসক নেই। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং গর্ভবতী নারী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে, যার ফলে গর্ভকালীন জটিলতা বাড়ছে।

মিঠুন মুন্ডা, বিশু সাঁওতালসহ একাধিক শ্রমিক জানান, “এখন বাগানে কোনো রকমে টিকে আছি। টাকা নেই—এই অজুহাতে রেশন তলব বন্ধ। যারা দুর্নীতি করেছে তারা নিরাপদে চলে গেছে, কিন্তু আমরা এই জঙ্গলেই রয়ে গেছি, কোথাও যাবার উপায় নেই।”

বাগানের বর্তমান ম্যানেজার মনির হোসেন, যিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি দাবি করেন—“বাগানে অতীতে অনিয়ম হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যকে জয়ধর হিরুর অভিনন্দন

error:

অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত জগদীশপুর চা বাগান: শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট সময় ০৮:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

হামিদুর রহমান,মাধবপুর (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড় সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী জগদীশপুর চা বাগান আজ অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শত চেষ্টা সত্ত্বেও বাগানটি লাভের মুখ দেখছে না, বরং প্রতিবছর লোকসানে ডুবে যাচ্ছে। এই লোকসানের ভার গিয়ে পড়ছে সরাসরি সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে জগদীশপুর সহ ১২ টি চা বাগান নিয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানি গঠিত হয়।

সরকারি মালিকানাধীন ১২টি চা বাগানের মধ্যে জগদীশপুর অন্যতম, যা জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে জাতীয়তরণ করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১১০০ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু গত ১৬ বছর ধরে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু আমলা, কর্মকর্তা ও পরিচালকের যোগসাজশে বাগানটি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে এনটিসির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের সময়কালে দুর্নীতি বেড়ে যায়। জানা গেছে, পরিচালক নাফিশ শরাফতের পরিবারের সদস্যদের নামে এনটিসির ৫১% শেয়ারের সিংহভাগ কেনা হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জগদীশপুর চা বাগানে। প্রতি বছর নতুন বাগান তৈরির নামে কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো ফল দেখা যায় না। নার্সারিতে মানসম্পন্ন চারা না থাকায় নতুন চা গাছ নষ্ট হচ্ছে, সার-কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার না থাকায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

চা পাতার মান খারাপ হওয়ায় নিলাম বাজারে এর দাম কম, ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও আয়—কোনোটিই সম্ভব হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানে ছায়াবৃক্ষ নেই বললেই চলে, গাছগুলোও প্রায় মরাপ্রায়। শ্রমিকরা নিম্নমানের কালো চা পাতা সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে বিক্রি করা কঠিন।

প্রতিবছর যন্ত্রাংশ কেনা ও মেরামতের নামে কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের জীবনযাপন এখন মানবেতর। দুই বছর ধরে শ্রমিকদের রেশন তলব বন্ধ বা অনিয়মিত। অনেক শ্রমিক পরিবার সপ্তাহশেষে রেশন না পেয়ে না খেয়ে থাকেন। ঘরবাড়ি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেই, হাসপাতাল বলতে একটি জরাজীর্ণ ঘর, যার মধ্যেও চিকিৎসক নেই। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং গর্ভবতী নারী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে, যার ফলে গর্ভকালীন জটিলতা বাড়ছে।

মিঠুন মুন্ডা, বিশু সাঁওতালসহ একাধিক শ্রমিক জানান, “এখন বাগানে কোনো রকমে টিকে আছি। টাকা নেই—এই অজুহাতে রেশন তলব বন্ধ। যারা দুর্নীতি করেছে তারা নিরাপদে চলে গেছে, কিন্তু আমরা এই জঙ্গলেই রয়ে গেছি, কোথাও যাবার উপায় নেই।”

বাগানের বর্তমান ম্যানেজার মনির হোসেন, যিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি দাবি করেন—“বাগানে অতীতে অনিয়ম হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”