ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যকে জয়ধর হিরুর অভিনন্দন Logo সাংবাদিকতার যোগ্যতা নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা Logo সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ‘স্কুল মিল’ চালুর উদ্যোগ Logo দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর Logo এনসিপি নেতার মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ নেতাকর্মীর জামিন Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে

শেরপুরে খাতা জমায় বিলম্ব, ১৬ শিক্ষার্থীকে পিটুনি – দুইজন হাসপাতালে ভর্তি

মোঃ শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি:শেরপুর জেলা শহরের গোপালবাড়ি এলাকার ইউনাইটেড স্কুলে খাতা জমা দিতে দেরি হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ১৬ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজন—মারিয়া আক্তার জুঁই (১১) ও ফাতেমা আক্তার ঝুমা (১১)—কে গুরুতর অবস্থায় রাতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, পরীক্ষার খাতা জমা দিতে কয়েক মিনিট দেরি করায় শিক্ষক পঙ্কজ দেবনাথ ১৬ শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে মারধর করেন। এতে তিন শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাদের মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা হয়।

আহত শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার জুঁই জানায়,
“পরীক্ষার পরে বেল বাজলে খাতা জমা দিতে একটু দেরি হয়েছিলো। স্যার রাগ করে আমাদের মারেন। আমার মাথায় পানি দেয়, বড়ি খাওয়ায়।”

অন্য শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার ঝুমা জানায়,
“স্যার সবাইকে মেরেছে, আমি সেন্স হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখনো অনেক ব্যথা পাই।”

এক অভিভাবক রিনা আক্তার বলেন,“স্কুল থেকে ফোন পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের মাথায় পানি ঢালছে। শিক্ষক বলেন, ‘পড়ালেখা করলে এরকম মার খেতে হবে।’ আমার মেয়ে এখনো আতঙ্কে আছে।”

স্বপ্না বেগম নামে আরেক অভিভাবক বলেন,“আমার মেয়ের অবস্থাও ভালো ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ দেবনাথ বলেন,
“ঘটনাটি যেমনভাবে প্রচার হচ্ছে তেমন নয়। ১৬ জন নয়, ১৩ জন শিক্ষার্থীকে শাসন করেছি। তারা পরীক্ষার সময় বই খুলে লিখছিলো।”

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরোজা আক্তার জাহান বলেন,
“দুই শিক্ষার্থীকে আনার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যকে জয়ধর হিরুর অভিনন্দন

error:

শেরপুরে খাতা জমায় বিলম্ব, ১৬ শিক্ষার্থীকে পিটুনি – দুইজন হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় ০২:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

মোঃ শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি:শেরপুর জেলা শহরের গোপালবাড়ি এলাকার ইউনাইটেড স্কুলে খাতা জমা দিতে দেরি হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ১৬ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজন—মারিয়া আক্তার জুঁই (১১) ও ফাতেমা আক্তার ঝুমা (১১)—কে গুরুতর অবস্থায় রাতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, পরীক্ষার খাতা জমা দিতে কয়েক মিনিট দেরি করায় শিক্ষক পঙ্কজ দেবনাথ ১৬ শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে মারধর করেন। এতে তিন শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাদের মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা হয়।

আহত শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার জুঁই জানায়,
“পরীক্ষার পরে বেল বাজলে খাতা জমা দিতে একটু দেরি হয়েছিলো। স্যার রাগ করে আমাদের মারেন। আমার মাথায় পানি দেয়, বড়ি খাওয়ায়।”

অন্য শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার ঝুমা জানায়,
“স্যার সবাইকে মেরেছে, আমি সেন্স হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখনো অনেক ব্যথা পাই।”

এক অভিভাবক রিনা আক্তার বলেন,“স্কুল থেকে ফোন পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের মাথায় পানি ঢালছে। শিক্ষক বলেন, ‘পড়ালেখা করলে এরকম মার খেতে হবে।’ আমার মেয়ে এখনো আতঙ্কে আছে।”

স্বপ্না বেগম নামে আরেক অভিভাবক বলেন,“আমার মেয়ের অবস্থাও ভালো ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ দেবনাথ বলেন,
“ঘটনাটি যেমনভাবে প্রচার হচ্ছে তেমন নয়। ১৬ জন নয়, ১৩ জন শিক্ষার্থীকে শাসন করেছি। তারা পরীক্ষার সময় বই খুলে লিখছিলো।”

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরোজা আক্তার জাহান বলেন,
“দুই শিক্ষার্থীকে আনার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।