
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুল্লা বাজারে একের পর এক চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে রাতের আঁধারে মুদির দোকান, হার্ডওয়্যার, কসমেটিকসের দোকানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও চুরির ঘটনা ঘটছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাহারাদারদের দায়িত্ব এবং ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক মাসে বুল্লা বাজারের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রবীণ ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, গত দুই দশকের মধ্যে এমন ধারাবাহিক চুরির ঘটনা তারা আগে দেখেননি।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ চৌধুরীর কসমেটিকসের দোকানের পেছনের তালা ভেঙে ও দরজা কেটে চুরি করা হয়। একই রাতে বুল্লা বাজার জামে মসজিদের তালা ভেঙে ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর আগেও ওই মসজিদ থেকে পানির পাম্প, মাইকসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম বুল্লা বাজারকে চোরের হাত থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল আহমেদ শিপন এক ফেসবুক পোস্টে বাজারের সাম্প্রতিক চুরির ঘটনা উল্লেখ করে পাহারাদারদের দায়িত্ব ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জুয়েলও বাজারে নিয়মিত চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চুরির ঘটনা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পাহারাদার না থাকা, রাতে নিয়মিত টহলের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তবে চুরির ঘটনায় বাজার পাহারাদার বা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্দিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুল্লা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, বাজারে পর্যাপ্ত পাহারাদার নিয়োগ এবং রাতে পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাখাই উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















