
বাংলার খবর ডেস্ক:
বিএনপির জন্য অত্যন্ত সুসময় ছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। সেই সময়ে দলে ছিল অনেক নেতার ভিড়। কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারোর সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলটির অবস্থা আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যায়। এরপর থেকেই দলটির প্রভাবশালী কিছু নেতা বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, যারা ‘সংস্কারপন্থি’ নামে পরিচিত হন।
এরপর শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপি আরও দুঃসময় পার করে। সেই সময় অনেক প্রভাবশালী নেতা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান, কেউ ব্যবসা রক্ষায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেন, কেউবা বিদেশে নির্বাসনে যান। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতারা নেই। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির পুরোনো নেতারা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন এবং অনেকে দলে ফেরার চেষ্টা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দলের অনেক বহিষ্কৃত ও পদত্যাগ করা নেতা গণসংযোগ করছেন। তবে তাদের ফেরানো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।’
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘বিএনপির হাইকমান্ড তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করব।’
বিএনপির তৃণমূল নেতারা বলছেন, যারা দুঃসময়ে দল ছেড়েছিলেন, এখন সুসময়ে তারা ফিরছেন — এতে দলের প্রতি তাদের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোসাদ্দেক আলী ফালু ২০১৭ সালে বিদেশ চলে যান এবং ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফিরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। দলে ফেরার চেষ্টা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তার পুনর্বহালের ঘোষণা এখনো আসেনি।
অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোরশেদ খান বর্তমানে সিঙ্গাপুরে ব্যবসা দেখছেন। বয়সজনিত কারণে রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এমপি হয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
তৃণমূল বিএনপি গঠনের পর শমসের মবিন চৌধুরীও এখন রাজনীতি থেকে অবসরে।
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরে গেছেন।
বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা ও সাবেক এমপি আলী আসগর লবী শেখ হাসিনার পতনের পর আবার বিএনপির রাজনীতিতে ফিরেছেন, তবে এতে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এখন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। সাবেক নেতা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, সৈয়দ একরামুজ্জামান, তৈমূর আলম খন্দকারসহ অনেকে এখন রাজনীতির আড়ালে।
দীর্ঘ সময় দল থেকে দূরে থাকা এই নেতারা এখন বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করলেও অনেকেই বলছেন — দুঃসময়ে যারা ছিলেন না, তাদের পুনর্বাসন দলীয় ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অবিচার হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















