
বাংলার খবর ডেস্ক:
শীত মৌসুমের আগেই হবিগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাখি শিকারীরা। বন বিভাগের সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও নেত্রকোনা—এই ছয় জেলার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়। অথচ সেখানে রয়েছে মাত্র একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা, একজন নারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং দুই-একজন সহায়ক কর্মচারী। ফলে বিশাল এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, “বারবার অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে জনবল ও বাজেট বরাদ্দের চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও হরষপুরে নির্বিচারে দেশি ও অতিথি পাখি শিকার চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও বন বিভাগের সীমিত সক্ষমতার সুযোগে শিকারীরা নির্বিঘ্নে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাখি প্রেমিক সোসাইটি’র সদস্য ও নারী উদ্যোক্তা শাবানা চৌধুরী মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি এক শিকারির মুখোমুখি হওয়ার তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি একাধিক অতিথি পাখি উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের প্রশংসা অর্জন করেন।
ওই শিকারির নাম মনসুর আলী, বাড়ি নবীগঞ্জের পূর্বপাড়া গ্রামে। তিনি আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন। বর্তমানে নিজস্ব দলবল নিয়ে আবারও শিকার চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের অজুহাতে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন।
হবিগঞ্জের বন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে লাউয়াছড়া ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা, হাকালুকি হাওর, বাইক্কা বিলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল। এসব এলাকা এখন হুমকির মুখে।
নবীগঞ্জের ইউএনও মো. রুহুল আমিন বলেন, “বন্যপ্রাণী আইনের আওতায় আমরা ইতিমধ্যে একজনকে সাজা দিয়েছি। পাখি শিকার প্রতিরোধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—প্রয়োজনে অফিসে এসে সরাসরি কথা বলতে পারেন।”
নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, “বন্যপ্রাণী নিধনের মতো নির্মমতা আমরা কোনোভাবেই সহ্য করব না। বন বিভাগ চাইলে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
হবিগঞ্জের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাবরীনা ছায়ীদা শিমু বলেন, “পাখি শিকার বন্ধে আমরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। পাখি শিকার অত্যন্ত গর্হিত কাজ।”
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগের অক্ষমতা শুধু প্রশাসনিক নয়—এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ সংকেত। আইন ও সংবিধান বিরুদ্ধ এই পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসন, বন বিভাগ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























