ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এনসিপি নেতার মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ নেতাকর্মীর জামিন Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে Logo লাখাইয়ের হাওরে কচুরিপানার জট, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক Logo সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo গাঁজা সেবন ও চুরির অভিযোগে লাখাইয়ে যুবক গ্রেপ্তার Logo জামালপুরে জলাবদ্ধতায় তিন বছরে শেষ ১৩৭ মাতৃ লিচুগাছ, সরকারি উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন

বড়লেখায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত -১০, থানায় মামলা, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

  • বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
  • মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামে মসজিদের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ১০ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৩০ মার্চ হিনাইনগর বালিছড়া জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা (নম্বর-২৫) করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- হিনাইনগর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে বিলাল আহমদ (৩২) ও দুলাল আহমদ (২৮), ময়ন উদ্দিনের ছেলে জাকার আহমদ (২৭), মউর আলীর ছেলে রাজন আহমদ (২৬) ও সুজন হোসেন (২৩), মৃত মস্তফা উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালিক (৫২) এবং খুটাউরা (মুর্শিবাদকুরা) গ্রামের মজির উদ্দিনের ছেলে নাজির মিয়া (৩৫)।

থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের হিনাইনগর বালিছড়া জামে মসজিদের জন্য বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি ছাব্বির হোসেনের পূর্ব পুরুষ (দাদা) কিছু ভূমি দান করেন। মসজিদে দান করা এ ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের আব্দুল খালিকের ছেলে বিলাল আহমদ গং-দের সাথে বিরোধ চলছিল। ভূমি নিয়ে বিরোধের এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে। এদিকে মজসিদের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ মার্চ বিকেলে হিনাইনগর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে বিলাল আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেনের স্বজনদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেন, তার চাচাতো ভাই জয়নুল ইসলাম, চাচা সফিক উদ্দিন, ওয়াছির আলী, সাবেক ইউপি সদস্য ও মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ফয়েজ আহমদ, মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন ও চাচাতো ভাই নাহিদ আহমদ এবং ভাতিজা তাওহিদ আহমদসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মামলার বাদী হিনাইনগর বালিছড়া জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেন বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ (দাদা) এই মসজিদে কিছু জমি দান করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের বিলাল আহমদ গং-রা দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের এ জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা নানা অজুহাতে আমাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে। তাদের অত্যাচারে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও অতিষ্ঠ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হয়েছে একাধিকবার। ভূমির বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এতে বিলাল আহমদ গং-রা আক্রোশান্নিত হয়ে আমি ও আমার স্বজনদের প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রসহকারে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে হামলা করেছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ জন আত্মীয় স্বজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায় বিচার কামনা করছি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. তৌহিদুর রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর

এনসিপি নেতার মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ নেতাকর্মীর জামিন

error:

বড়লেখায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত -১০, থানায় মামলা, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

আপডেট সময় ১১:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

  • বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
  • মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামে মসজিদের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ১০ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৩০ মার্চ হিনাইনগর বালিছড়া জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা (নম্বর-২৫) করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- হিনাইনগর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে বিলাল আহমদ (৩২) ও দুলাল আহমদ (২৮), ময়ন উদ্দিনের ছেলে জাকার আহমদ (২৭), মউর আলীর ছেলে রাজন আহমদ (২৬) ও সুজন হোসেন (২৩), মৃত মস্তফা উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালিক (৫২) এবং খুটাউরা (মুর্শিবাদকুরা) গ্রামের মজির উদ্দিনের ছেলে নাজির মিয়া (৩৫)।

থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের হিনাইনগর বালিছড়া জামে মসজিদের জন্য বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি ছাব্বির হোসেনের পূর্ব পুরুষ (দাদা) কিছু ভূমি দান করেন। মসজিদে দান করা এ ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের আব্দুল খালিকের ছেলে বিলাল আহমদ গং-দের সাথে বিরোধ চলছিল। ভূমি নিয়ে বিরোধের এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে। এদিকে মজসিদের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ মার্চ বিকেলে হিনাইনগর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে বিলাল আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেনের স্বজনদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেন, তার চাচাতো ভাই জয়নুল ইসলাম, চাচা সফিক উদ্দিন, ওয়াছির আলী, সাবেক ইউপি সদস্য ও মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ফয়েজ আহমদ, মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন ও চাচাতো ভাই নাহিদ আহমদ এবং ভাতিজা তাওহিদ আহমদসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মামলার বাদী হিনাইনগর বালিছড়া জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ছাব্বির হোসেন বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ (দাদা) এই মসজিদে কিছু জমি দান করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের বিলাল আহমদ গং-রা দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের এ জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা নানা অজুহাতে আমাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে। তাদের অত্যাচারে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও অতিষ্ঠ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হয়েছে একাধিকবার। ভূমির বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এতে বিলাল আহমদ গং-রা আক্রোশান্নিত হয়ে আমি ও আমার স্বজনদের প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রসহকারে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে হামলা করেছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ জন আত্মীয় স্বজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায় বিচার কামনা করছি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. তৌহিদুর রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।