ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে কন্যাশিশু দিবস পালিত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও র‍্যালি Logo লাখাইয়ে এক ঘণ্টায় শেয়ালের কামড়ে আহত ৩২, হাসপাতালে রোগীর ভিড় Logo লাখাইয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম Logo লাখাইয়ে বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে ১৩টি পদ্মগোখরোর বাচ্চা উদ্ধার Logo লাখাইয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, বাম্পার ফলনের আশা Logo লাখাইয়ে নাজমুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ‘লাদেন’ গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে পুকুরে মুরগির খামারের বর্জ্য ভাসার অভিযোগ, পানিদূষণ নিয়ে উদ্বেগ Logo মাধবপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ, জরিমানা ২ হাজার টাকা Logo মাধবপুরে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত, বাল্যবিবাহ বন্ধের আহ্বান Logo ধর্মীয় উৎসবে সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে: এমপি ফয়সল

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, ঢাকায় গিয়ে মিলল ভিন্ন চিত্র

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল রিপোর্ট ও চিকিৎসকের অসতর্ক মন্তব্যের কারণে মানসিক আতঙ্ক, অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আর্থিক ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন রহিম তালুকদার নামে এক রোগী।

ভুক্তভোগী রহিম তালুকদার জানান, কিছুদিন আগে ক্রিকেট খেলার সময় বল ধরতে গিয়ে তাঁর হাতে সামান্য আঘাত লাগে। প্রথমদিকে ব্যথা কম থাকলেও পরে তা বেড়ে যাওয়ায় গত ১৯ তারিখে তিনি লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান এবং একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

ওই চিকিৎসক তাঁর হাত পরীক্ষা করে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি স্থানীয় ‘মা-মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ থেকে এক্স-রে করিয়ে পুনরায় জরুরি বিভাগের ওই চিকিৎসককে রিপোর্ট দেখান।

রহিম তালুকদারের অভিযোগ, এক্স-রে দেখার পর চিকিৎসক তাঁকে জানান যে তাঁর হাত ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়।

চিকিৎসকের এমন বক্তব্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পরদিন, অর্থাৎ ২০ তারিখে তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে ইবনে সিনা হাসপাতালের একজন পরিচিত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি আরও কয়েকটি এক্স-রে করান এবং আগের রিপোর্টগুলোর সঙ্গে নতুন রিপোর্টও দেখান।

রহিম তালুকদারের দাবি, ইবনে সিনার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর আগের ও নতুন সব রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। এরপর লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের দেওয়া ‘হাত ভেঙে গেছে’—এমন মন্তব্যের বিষয়টি জানালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিস্মিত হন।

ভুক্তভোগী রহিম তালুকদার বলেন, “একজন রোগী চিকিৎসকের ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই সেবা নিতে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের এমন ভুল বা অসতর্ক মন্তব্য রোগীকে কেবল মানসিকভাবে আতঙ্কিতই করে না, বরং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনো চিকিৎসককে হেয় প্রতিপন্ন করা নয়। জনসেবামূলক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

রহিম তালুকদারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য ও চিকিৎসাবিষয়ক নথি যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে কন্যাশিশু দিবস পালিত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও র‍্যালি

error:

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, ঢাকায় গিয়ে মিলল ভিন্ন চিত্র

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল রিপোর্ট ও চিকিৎসকের অসতর্ক মন্তব্যের কারণে মানসিক আতঙ্ক, অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আর্থিক ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন রহিম তালুকদার নামে এক রোগী।

ভুক্তভোগী রহিম তালুকদার জানান, কিছুদিন আগে ক্রিকেট খেলার সময় বল ধরতে গিয়ে তাঁর হাতে সামান্য আঘাত লাগে। প্রথমদিকে ব্যথা কম থাকলেও পরে তা বেড়ে যাওয়ায় গত ১৯ তারিখে তিনি লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান এবং একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

ওই চিকিৎসক তাঁর হাত পরীক্ষা করে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি স্থানীয় ‘মা-মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ থেকে এক্স-রে করিয়ে পুনরায় জরুরি বিভাগের ওই চিকিৎসককে রিপোর্ট দেখান।

রহিম তালুকদারের অভিযোগ, এক্স-রে দেখার পর চিকিৎসক তাঁকে জানান যে তাঁর হাত ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়।

চিকিৎসকের এমন বক্তব্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পরদিন, অর্থাৎ ২০ তারিখে তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে ইবনে সিনা হাসপাতালের একজন পরিচিত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি আরও কয়েকটি এক্স-রে করান এবং আগের রিপোর্টগুলোর সঙ্গে নতুন রিপোর্টও দেখান।

রহিম তালুকদারের দাবি, ইবনে সিনার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর আগের ও নতুন সব রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। এরপর লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের দেওয়া ‘হাত ভেঙে গেছে’—এমন মন্তব্যের বিষয়টি জানালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিস্মিত হন।

ভুক্তভোগী রহিম তালুকদার বলেন, “একজন রোগী চিকিৎসকের ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই সেবা নিতে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের এমন ভুল বা অসতর্ক মন্তব্য রোগীকে কেবল মানসিকভাবে আতঙ্কিতই করে না, বরং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনো চিকিৎসককে হেয় প্রতিপন্ন করা নয়। জনসেবামূলক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

রহিম তালুকদারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য ও চিকিৎসাবিষয়ক নথি যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।