
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধের গুরুত্ব ও মুক্তিযুদ্ধে এর অনন্য অবদান তুলে ধরে একটি তথ্যবহুল পোস্ট প্রকাশ করেছেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান। তাঁর সরকারি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই পোস্টে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে তেলিয়াপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বৈঠক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ইউএনও তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার পরিকল্পনা, জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্তসহ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসব সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নতুন প্রজন্মের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে ইউএনও বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে তেলিয়াপাড়ার মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল মনে করেন, তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ শুধু হবিগঞ্জ বা মাধবপুরের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, গবেষক ও দর্শনার্থীরা এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
ইতিহাসবিদদের মতে, তেলিয়াপাড়ার বৈঠক ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠিত সামরিক কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় কার্যকর নেতৃত্ব, সমন্বয় এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়দের দাবি, তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধকে আরও আকর্ষণীয় ও গবেষণাবান্ধব ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাদের মতে, এ স্থানের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
বাংলার খবর ডেস্ক : 















