
হামিদুর রহমান/শিপন, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) চারদিকে যখন ঈদের আনন্দ আর নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার উৎসব, ঠিক তখনই দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে দেশের নিরাপত্তায় নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ না থাকলেও হাতে রাইফেল আর বুকে দেশপ্রেম নিয়ে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।
এমনই চিত্র দেখা গেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়। জানা যায়, ধর্মঘর কোম্পানি সীমান্তে ২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে তিনটি বিওপির মাধ্যমে প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধীনে মাধবপুরের চারটি বিওপির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এসব এলাকায় দায়িত্ব পালন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবুও বিজিবি সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটকে কেন্দ্র করে চোরাচালান প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
দিন-রাত টহল ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে যে কোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা রোধে সক্রিয় রয়েছে বিজিবি। রমজান মাস ও ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ না পেলেও দায়িত্ব পালনে কোনো ক্লান্তি নেই সদস্যদের মধ্যে। সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার ও ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েই তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধর্মঘর বিওপি কমান্ডার মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের সময় অনেক সদস্য বাড়িতে যেতে পারেননি—এটাই আমাদের পেশাদারিত্বের একটি দৃষ্টান্ত। তবুও আমরা হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, ঈদের দিনেও বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দ থেকে দূরে থেকেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির এই আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধ নতুন করে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















