
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। বিশেষ করে এ আসনের ২৩টি চা বাগানে দেখা যাচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উদ্দীপনা।
দীর্ঘদিন পর চা শ্রমিকদের মধ্যে এমন উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ ফয়সল এবং তাঁর দুই ছেলে—চা শ্রমিক কাণ্ডারি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের ধারাবাহিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি চা বাগান এলাকায় নতুন রাজনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি করেছে।
তাদের প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সুপেয় পানি সরবরাহ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। প্রার্থী ও তাঁর পরিবার সরাসরি শ্রমিকদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যা শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে চা শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে এবং তারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।
স্থানীয় চা শ্রমিকরা জানান, অতীতের কোনো নির্বাচনে চা বাগান এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে এত ব্যাপক সাড়া দেখা যায়নি। এবারের প্রচারণায় নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক তরুণ ভোটার স্থায়ী কর্মসংস্থান ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রত্যাশা করছেন।
সরেজমিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে কথা হয় নারী শ্রমিক শেফালি সাঁওতালের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ ফয়সল এবং তাঁর দুই ছেলে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন এবং শ্রমিকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। এ কারণেই সবাই ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে একত্রিত হয়েছেন।
চানপুর চা বাগানের নারী নেত্রী খায়রুন আক্তার বলেন, এবারের প্রচারণায় দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা ও চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব কারণেই শ্রমিকরা একতাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি জানান, ২৪টি চা বাগানের শ্রমিকরা একত্র হয়ে ধানের শীষের পক্ষে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
এদিকে নোয়াপাড়া চা বাগানে গণসংযোগকালে চা শ্রমিক কাণ্ডারি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার বহু বছর পরও চা শ্রমিকদের ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। তারা এখনও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করছেন। বিএনপি এই আসনে জয়ী হলে এবং সরকার গঠন করলে চা শ্রমিকদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























