ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু Logo জ্বালানি তেলে এক মাসের রিজার্ভ, বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের Logo স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা Logo মাধবপুরে চা বাগানে পেমেন্ট বন্ধ, শ্রমিকদের বিক্ষোভ—ব্যবস্থাপকের বাংলোতে তালা Logo পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী Logo মাধবপুরে ২২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক Logo চেয়ারম্যান হয়ে আন্দিউড়া ইউনিয়নবাসীর সেবায় নিয়োজিত হতে চান মোত্তাকিম চৌধুরী Logo স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাধ্যতামূলক Logo হবিগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান, অবৈধ প্রসাধনীসহ আটক ২ Logo লাখাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের পূর্ণ কমিটি গঠন: সভাপতি কাশেম, সম্পাদক রফিকুল

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য দুই গ্রাম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রাম। টানা চার দিন ধরে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ ঘরছাড়া হয়ে থাকায় পরিবারের সদস্যরা খাদ্য সংকটসহ নানা দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্রামজুড়ে এখন নারীদের কান্না আর শিশুদের অসহায়ত্বই চোখে পড়ে। পুলিশের ভয়ে আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত খোঁজ নিতে আসছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৩০ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও মাধবপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সংঘর্ষে থানার ওসিসহ ১২ পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরদিন পুলিশ অ্যাসল্টসহ ৮০ জনের নাম-উল্লেখ করে মামলা করে এবং অজ্ঞাত রাখা হয় আরও দুই হাজার জনকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইটাখোলা গ্রামের জুলেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোথায় পালিয়ে আছে জানি না। ঘরে বাজার-সদাই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে দুই বেলা খেয়ে বাঁচাটাই কষ্ট হয়ে গেছে।”

একই গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কেউ মারামারিতে ছিলাম না। তারপরও পুলিশের ডরে সবাই বাড়ি ছাইড়া গেছে। আমরা বড় অভাবে আছি।”

বেঙ্গাডোবা গ্রামের একাধিক নারী জানান, ৩০ নভেম্বরের ঘটনার পর দুই পক্ষ আলোচনায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করলেও পুলিশ রাতে বাড়ি-ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।

হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্ল্যা বলেন, “দুই গ্রামের সংঘর্ষ ভয়াবহ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষকারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১২ জন পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই টিয়ারশেল ছুড়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য ভিডিও ফুটেজ ও জবানবন্দি যাচাই করে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের কাজ কাউকে হয়রানি করা নয়।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

error:

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য দুই গ্রাম

আপডেট সময় ০৭:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রাম। টানা চার দিন ধরে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ ঘরছাড়া হয়ে থাকায় পরিবারের সদস্যরা খাদ্য সংকটসহ নানা দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্রামজুড়ে এখন নারীদের কান্না আর শিশুদের অসহায়ত্বই চোখে পড়ে। পুলিশের ভয়ে আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত খোঁজ নিতে আসছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৩০ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও মাধবপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সংঘর্ষে থানার ওসিসহ ১২ পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরদিন পুলিশ অ্যাসল্টসহ ৮০ জনের নাম-উল্লেখ করে মামলা করে এবং অজ্ঞাত রাখা হয় আরও দুই হাজার জনকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইটাখোলা গ্রামের জুলেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোথায় পালিয়ে আছে জানি না। ঘরে বাজার-সদাই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে দুই বেলা খেয়ে বাঁচাটাই কষ্ট হয়ে গেছে।”

একই গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কেউ মারামারিতে ছিলাম না। তারপরও পুলিশের ডরে সবাই বাড়ি ছাইড়া গেছে। আমরা বড় অভাবে আছি।”

বেঙ্গাডোবা গ্রামের একাধিক নারী জানান, ৩০ নভেম্বরের ঘটনার পর দুই পক্ষ আলোচনায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করলেও পুলিশ রাতে বাড়ি-ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।

হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্ল্যা বলেন, “দুই গ্রামের সংঘর্ষ ভয়াবহ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষকারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১২ জন পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই টিয়ারশেল ছুড়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য ভিডিও ফুটেজ ও জবানবন্দি যাচাই করে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের কাজ কাউকে হয়রানি করা নয়।”