ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে Logo লাখাইয়ের হাওরে কচুরিপানার জট, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক Logo সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo গাঁজা সেবন ও চুরির অভিযোগে লাখাইয়ে যুবক গ্রেপ্তার Logo জামালপুরে জলাবদ্ধতায় তিন বছরে শেষ ১৩৭ মাতৃ লিচুগাছ, সরকারি উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন Logo জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কামরুল ইসলাম সভাপতি, জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য দুই গ্রাম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রাম। টানা চার দিন ধরে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ ঘরছাড়া হয়ে থাকায় পরিবারের সদস্যরা খাদ্য সংকটসহ নানা দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্রামজুড়ে এখন নারীদের কান্না আর শিশুদের অসহায়ত্বই চোখে পড়ে। পুলিশের ভয়ে আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত খোঁজ নিতে আসছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৩০ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও মাধবপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সংঘর্ষে থানার ওসিসহ ১২ পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরদিন পুলিশ অ্যাসল্টসহ ৮০ জনের নাম-উল্লেখ করে মামলা করে এবং অজ্ঞাত রাখা হয় আরও দুই হাজার জনকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইটাখোলা গ্রামের জুলেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোথায় পালিয়ে আছে জানি না। ঘরে বাজার-সদাই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে দুই বেলা খেয়ে বাঁচাটাই কষ্ট হয়ে গেছে।”

একই গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কেউ মারামারিতে ছিলাম না। তারপরও পুলিশের ডরে সবাই বাড়ি ছাইড়া গেছে। আমরা বড় অভাবে আছি।”

বেঙ্গাডোবা গ্রামের একাধিক নারী জানান, ৩০ নভেম্বরের ঘটনার পর দুই পক্ষ আলোচনায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করলেও পুলিশ রাতে বাড়ি-ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।

হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্ল্যা বলেন, “দুই গ্রামের সংঘর্ষ ভয়াবহ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষকারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১২ জন পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই টিয়ারশেল ছুড়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য ভিডিও ফুটেজ ও জবানবন্দি যাচাই করে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের কাজ কাউকে হয়রানি করা নয়।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

error:

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য দুই গ্রাম

আপডেট সময় ০৭:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রাম। টানা চার দিন ধরে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ ঘরছাড়া হয়ে থাকায় পরিবারের সদস্যরা খাদ্য সংকটসহ নানা দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্রামজুড়ে এখন নারীদের কান্না আর শিশুদের অসহায়ত্বই চোখে পড়ে। পুলিশের ভয়ে আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত খোঁজ নিতে আসছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৩০ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও মাধবপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সংঘর্ষে থানার ওসিসহ ১২ পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরদিন পুলিশ অ্যাসল্টসহ ৮০ জনের নাম-উল্লেখ করে মামলা করে এবং অজ্ঞাত রাখা হয় আরও দুই হাজার জনকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইটাখোলা গ্রামের জুলেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোথায় পালিয়ে আছে জানি না। ঘরে বাজার-সদাই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে দুই বেলা খেয়ে বাঁচাটাই কষ্ট হয়ে গেছে।”

একই গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কেউ মারামারিতে ছিলাম না। তারপরও পুলিশের ডরে সবাই বাড়ি ছাইড়া গেছে। আমরা বড় অভাবে আছি।”

বেঙ্গাডোবা গ্রামের একাধিক নারী জানান, ৩০ নভেম্বরের ঘটনার পর দুই পক্ষ আলোচনায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করলেও পুলিশ রাতে বাড়ি-ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।

হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্ল্যা বলেন, “দুই গ্রামের সংঘর্ষ ভয়াবহ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষকারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১২ জন পুলিশ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই টিয়ারশেল ছুড়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য ভিডিও ফুটেজ ও জবানবন্দি যাচাই করে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের কাজ কাউকে হয়রানি করা নয়।”