
জালাল উদ্দিন লস্কর:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভুট্টা পচিয়ে স্টার্চ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি তরল বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে ফেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি কারখানায় থাকা এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) কার্যকরভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগও রয়েছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি, জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধের কারণে রতনপুর-ছাতিয়াইন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও বমিভাবসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কথা সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। অতীতে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তাদের দাবি, সময়ের সঙ্গে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেখানো স্থানে কারখানার পাশের ড্রেনে কালো রঙের বর্জ্য পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান। কারখানা থেকে ট্রাকযোগে পশুখাদ্য পরিবহনের সময়ও দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানায় ইটিপি থাকলেও সেটি নিয়মিত চালু রাখা হয় না অথবা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি তরল বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে না। এর ফলে বর্জ্য মিশ্রিত পানি আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
দূষণের কারণে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। একই সঙ্গে দূষিত পানি পান করে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আশপাশের খাল ও জলাশয়ে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
কারখানার অদূরে অবস্থিত ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও নিয়মিত ওই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। তাদের অভিযোগ, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টসসহ জেলার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ইটিপির কার্যকারিতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. ইউসুফ আলী জানান, গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওই মামলার বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং মামলাটি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 











