
বাংলার খবর ডেস্ক:
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা দুই হাজার ৫৯৪ জন হলেও তাদের মধ্যে থাকা ৯৪ নারী কয়েদির কারোরই ফাঁসি কার্যকর হয়নি বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা সূত্র জানায়, দেশের ১৪টি কেন্দ্রীয় ও ৬০টি জেলা কারাগারে মোট বন্দি রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার, যেখানে ধারণক্ষমতা মাত্র ৪২ হাজার ৮৭৭ জন। এদের মধ্যেই বিভিন্ন হত্যা মামলা ও গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দির সংখ্যা বাড়লেও কার্যকর হয়নি কোনো নারী আসামির দণ্ড।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন সমকালকে জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য বিশেষ সেল থাকলেও দেশে কোনো নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয়নি। আইনে নারীদের ফাঁসি না দেওয়ার কোনো বিধান নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক ডিআইজি (প্রিজন্স) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে বেশ কয়েকটি আইনি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নারী আসামির মামলায় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে ফাঁসি কার্যকর করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কারাগার নিয়ে অনেক প্রচলিত মিথ আছে—অনেকে বিশ্বাস করেন রমজানে ফাঁসি কার্যকর হয় না; যদিও আইনে এমন কিছু নেই। তবে সাধারণত ধর্মীয় কারণে রমজানে ফাঁসি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা সূত্র আরও জানায়, দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে—এখানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদির সংখ্যা ৫৪ জন।