বাংলার খবর ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দেড় দশক ধরে দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা ওই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম কোনো সাবেক সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দু’জন বিচারক ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার তৃতীয় আসামি, তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, গণঅভ্যুত্থান দমনকালে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা, হত্যা, নির্যাতন—এসব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আসাদুজ্জামান খানকে সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ রায় একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে।