বাংলার খবর ডেস্ক:
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির মাধ্যমে নাশকতার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বুধবার রাতে অভিযান পরিচালনা করেন।
রাত ৮টার দিকে মাধবপুর থানা পুলিশের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা বোতলে তেল বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালান। এ সময় অনুমোদনবিহীনভাবে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ী—অজিত পাল ও ধীরেন্দ্র ঘোষকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ খালি বোতল, প্লাস্টিকের জার ও তেল বিক্রির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “বাজারে খোলা বোতলে তেল বিক্রির কারণে অসাধু ব্যক্তিরা সহজেই তা ব্যবহার করে নাশকতা ঘটাতে পারে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। তাই এই ধরনের বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারি চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কেউ যাতে জ্বালানি তেল ব্যবহার করে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। নিয়মভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
এদিকে মাধবপুর থানা পুলিশ ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। স্থানীয় চৌকিদারদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি রেলপথ, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক, ট্রেন স্টেশন, ব্রিজ-কালভার্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদ উল্যা বলেন, “হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের নির্দেশে আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে আছি। প্রতিটি পুলিশ সদস্য দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে যাতে এলাকায় কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে।”
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত মাধবপুরে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রিয় ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, খোলা বোতলে তেল বিক্রি বন্ধ হওয়ায় সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড বা নাশকতার ঝুঁকি অনেক কমে গেছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদার থাকায় জননিরাপত্তা আগের চেয়ে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।