
বাংলার খবর ডেস্ক:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সম্প্রতি আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনায়, উপজেলার ঘিলাতলী গ্রামের ৪নং আদাঐর ইউনিয়নের বাসিন্দা দুধ মিয়া (৬৫) আজ সকালে তাঁর মেয়ের বাড়ি সুন্দাদিল গ্রামে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুধ মিয়া ছিলেন সহজ-সরল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা না গেলেও, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক একাকিত্ব তাঁকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। মনতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক ফেরদৌস আহমেদ জানান,
> “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।”
### আত্মহত্যার হার বৃদ্ধিতে উদ্বেগ
মাধবপুর এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আত্মহত্যার হার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর্থিক অনটন, সামাজিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব এই প্রবণতা বৃদ্ধির মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রেই মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী মানসিক একাকিত্ব, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং অবহেলার শিকার হয়ে হতাশায় ভুগছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সমাজে সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়; বরং এটি একটি গভীর মানসিক সংকটের প্রতিফলন। সময়মতো পরামর্শ ও সহায়তা পেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব।