
মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে মায়ের দাফনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে নাসিরুদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে টেঁটা, বল্লম, লাঠি, হেলমেট, লাইফ জ্যাকেটসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন এবং কয়েকটি ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শুরুতে প্রশাসনের কোনো উপস্থিতি ছিল না। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত নাসিরুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, স্থানীয় নুরুল হকের শতবর্ষী মৃত মায়ের দাফন নিয়ে ছয় ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শুক্রবার রাতে এক ভাই অপর ভাইয়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকালে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।