মোঃ সাগর আহমেদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি নবীগঞ্জের আনমনু ও তিমিরপুর গ্রামের টানা তিন দিনব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনাটি অবশেষে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জে কে হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত শালিস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া।
শালিস বৈঠকে দুই পক্ষের জবানবন্দি শোনার পর ২১ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত ৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখবেন।
এছাড়া দুই পক্ষের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর মধ্যে নিহত দুই পরিবারের জন্য ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা এবং বাকী ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ বিতরণ করা হবে। এ অর্থ বণ্টনের দায়িত্বে এডভোকেট আবুল ফজলকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহাজাহান আলী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফু, সাবেক পৌর মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পাশাপাশি হাসপাতাল, বাজার ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ শালিসের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।